প্রকৃত রোগীর পিতা ও উপজেলার নাম পরিবর্তন করে অন্যজনকে জাল মেডিকেল সনদ দেওয়ার দায়ে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফয়সাল আহম্মেদকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার তাকে কারাগারে পাঠানোর অদেশ প্রদান করেন। অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি হদিউজ্জামান শেখ এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ডা. ফয়সাল আহম্মেদ একটি মামলার (জি আর ৪২/২০২৫ বেলকুচি) প্রকৃত রোগী শাহ জালাল এর পিতা মহব্বত আলীর স্থলে আলতাব এবং থানা শাহাজাদপুর এর স্থলে বেলকুচি তিনি নিজ হাতে সংশোধন করেছেন। একই সিরিয়ালে দুইজন ব্যক্তিকে ভর্তি টিকিট দিয়েছেন। এই বিষয়টি আসামী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিত সাহা আদালতকে লিখিতভাবে অবগত করেন।
পরবর্তীতে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ডাক্তার ফয়সাল আহম্মেদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। ডাক্তার ফয়সাল গত ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্ব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। পরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট-৩ এর আদালতের বিচারক ওবায়দুল হক রুমি আমলী আদালতে নিয়মিত মামলা দায়ের ও ক্ষমতা প্রদান করার জন্য আদালতের বেঞ্চ সহকারী রোজিনা খাতুনকে নির্দেশ প্রদান করেন। পরে তিনি ডাক্তার ফয়সাল আহম্মেদ ও বেলকুচি উপজেলার কদমতলী গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে মোতালেব হোসেনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় সোমবার ডা. ফয়সাল আদালতে হাজির হলে আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন।
অভিযোগ পত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ভিকটিম শাহজালালের পিতা আলতাব হোসেনকে একটি ইচ্ছাকৃত সৃজিত মেডিকেল সনদপত্র প্রদান করেছেন যা জাল মর্মে প্রতীয়মান হয়। অর্থাৎ তিনি তার এই কাজের মাধ্যমে পেনাল কোর্টের ১৮৬০ এর ৪৬৩ ধারায় অপরাধ করেছেন যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ মর্মে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়।
আদালতের এপিপি হদিউজ্জামান শেখ বলেন, ডাক্তার ফয়সালের বিরুদ্ধে জাল সনদ দেওয়ার একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। রোগীর পিতা ও উপজেলার নাম পরিবর্তন করেও তিনি জাল মেডিকেল সনদপত্র দিয়েছেন। বিষয়টি তিনি আদালতে স্বীকার করেছেন। আজ আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর