কক্সবাজারে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে জনস্বাস্থ্য নিয়ে। জেলায় গত কয়েক দিনে অন্তত ৩৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই শিশু। চিকিৎসকেরা বলছেন, এটি একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ৩০ জন এবং কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালে ৫ জন ভর্তি রয়েছেন। তাদের সবাইকে শিশু ওয়ার্ডে আলাদা ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শহিদুল আলম জানান, হামের লক্ষণ হিসেবে সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি ও চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে জটিলতার মাত্রা তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তার ভাষ্য, অনেক শিশুর ক্ষেত্রে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, চোখে সংক্রমণ এমনকি শরীরে ঘা হওয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।
হামের সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে পৃথক সরঞ্জাম ব্যবহার এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, রোগটি অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় অন্য রোগীদের সুরক্ষার জন্য এ ধরনের পৃথক ব্যবস্থাপনা জরুরি হয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, টিকাদানে ঘাটতি, মৌসুমি পরিবর্তন এবং জনসমাগম বেশি হওয়ায় সংক্রমণ বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত টিকা পায়নি বা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে, তাদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি।
ডা. শহিদুল আলম অভিভাবকদের প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশুর জ্বর বা হামের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। একই সঙ্গে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল গ্রহণ করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা এবং আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।
চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলছেন, হামের প্রাদুর্ভাবকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সময়মতো চিকিৎসা না হলে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী জটিলতা তৈরি করতে পারে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, আক্রান্তদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর