পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নিরাপত্তা প্রোটোকল ভঙ্গের ঘটনায় সৃষ্ট বিতর্কে নিজের দায় স্বীকার করেছেন লাহোর কালান্দার্সের জিম্বাবুইয়ান অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা। পাঞ্জাব পুলিশের ফাঁস হওয়া এক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে তিনি স্পষ্ট করে জানান, হোটেল কক্ষে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া ছিল তার ব্যক্তিগত অসাবধানতার ফল—এতে অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদির কোনো দায় নেই।
ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার রাতে। রাজার সঙ্গে দেখা করতে চারজন অতিথি হোটেলে এলে, পুলিশের দাবি অনুযায়ী নিরাপত্তাকর্মীদের আপত্তি উপেক্ষা করে রাজা ও শাহীন তাদের খেলোয়াড়দের নির্ধারিত ফ্লোরে নিয়ে যান, যেখানে তারা প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করেন।
তবে রাজা এই অভিযোগ খণ্ডন করে বলেন, আগতরা ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের সদস্য। টুর্নামেন্টের কঠোর নিরাপত্তা নিয়ম সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে তিনি তাদের উপরে আনার জন্য অধিনায়কের সহায়তা নেন। তার দাবি, তারা সেখানে মাত্র ৪০ মিনিট ছিলেন এবং ঘটনাটি পুরোপুরি অনিচ্ছাকৃত ভুল।
শাহীন শাহ আফ্রিদির বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগও নাকচ করেন রাজা। তিনি বলেন, শাহীন কাউকে জোর করেননি বা কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করেননি; বরং সতীর্থের অনুরোধেই সাহায্য করেছিলেন।
রাজার ভাষায়, বিজনেস সেন্টারে দেখা করতে না চাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়—যা দলীয় শৃঙ্খলার ভাঙন নয়, বরং ব্যক্তিগত আবেগের ফল।
এদিকে, ঘটনার পর লাহোর কালান্দার্স কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নেয়। অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্যে অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদিকে ১০ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজির বিবৃতিতে জানানো হয়, শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এই স্বপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বিস্তারিত প্রতিবেদন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছেও জমা দেওয়া হয়েছে।
মাঠের পারফরম্যান্সেও কিছুটা চাপের মুখে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ফখর জামানের বিরুদ্ধে বল টেম্পারিংয়ের তদন্ত এবং এই নিরাপত্তা ইস্যুর মধ্যেই লাহোর কালান্দার্স বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে।
দুই ম্যাচে এক জয় ও এক হারে তাদের সংগ্রহ ২ পয়েন্ট। মাঠের বাইরের এই বিতর্ক এবং জরিমানা আদায়ের বিষয়টি আগামী ডিসিপ্লিনারি হিয়ারিংয়ে কতটুকু প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর