ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় খালাকে হত্যা করে মরদেহ সেপ্টিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আলমগীর হোসেন (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আলমগীর চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে।
পুলিশ জানায়, নিহত জামেলা বেগম (৬৫) আলমগীরের খালা। তিনি নগরকান্দা উপজেলার রাধানগর এলাকায় নিজ বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। তার দুটি বিবাহিত কন্যা সন্তান থাকলেও কোনো পুত্রসন্তান নেই। জমি বিক্রির কিছু টাকা তিনি একটি এনজিওতে এফডিআর হিসেবে জমা রেখেছিলেন।
আলমগীর ওই টাকা থেকে কিছু ধার চেয়ে খালার কাছে একাধিকবার অনুরোধ করেন। কিন্তু জামেলা বেগম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ২৭ মার্চ রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে আলমগীর খালার বাড়িতেই অবস্থান করেন। গভীর রাতে আবারও টাকা ধার চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আলমগীর শ্বাসরোধ করে খালাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ পাশের একটি বাড়ির সেপ্টিক ট্যাংকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে নগরকান্দা থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়। মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় তাঁরা।
মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নগরকান্দা থানার কর্মকর্তাগণ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকরা।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর