বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ২০১৫ সালে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং তিনজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা অভিযোগ আমলে নিয়ে ১৫ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, অন্য সদস্যরা ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। অভিযোগ উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর মো. সহিদুল ইসলাম সরদার।
মামলার চার আসামির মধ্যে বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক।
এই মামলায় বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্যর্থ হওয়ার পর, তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই দুই ব্যক্তিকে হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহ তাদের অধস্তন পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী–গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর