দিন যত যাচ্ছে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জ্বালানি তেলের সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। তেলের পাম্পে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পুলিশ ও ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেও শৃঙ্খলা ফেরানো যাচ্ছে না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভোক্তারা, ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে উপজেলার একমাত্র তেলের পাম্প মেসার্স সাহা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, 'তেল নাই' লিখে পাম্পটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ৯ হাজার লিটার জ্বালানি তেলের চাহিদার বিপরীতে পার্বতীপুর ডিপো থেকে লটারির মাধ্যমে রেশনিং পদ্ধতিতে তিন দিন পর পর ৩ হাজার লিটার তেল সরবরাহ করছেন বলে জানিয়েছেন সাহা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক। চলতি সপ্তাহের রবিবার ও বুধবার দুই দিন তেল বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয়রা জানান, পাম্পে তেল দেওয়ার খবরে শত শত মোটরসাইকেল নিয়ে কাক ডাকা ভোরে লোকজন লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের লম্বা সারি মহাসড়ক পর্যন্ত পৌঁছায়। জনপ্রতি মাত্র ৩০০ টাকার তেল দিচ্ছেন পাম্প কর্তৃপক্ষ। তাও আবার লাইনে দাঁড়ানো সবাই পাচ্ছেন না। কখনো কখনো অর্ধেক লোককে তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, পাম্পে চাহিদা মতো তেল পাওয়া না গেলেও খুচরা বাজারে কিছু তেল পাওয়া যাচ্ছে, যা অতি চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সীমান্তের একটি সূত্র জানায়, উপজেলার বহলগুড়ি ও বাঁশজানি সীমান্ত দিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভারত থেকে নিম্নমানের জ্বালানি তেল (পেট্রোল) নিয়ে এসে ২৩০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা লিটার বিক্রি করছে। পাম্পে তেল নিতে আসা কফিলুর রহমান জানান, তিন দিন থেকে ঘুরছি কোথাও তেল পাইনি। আরেক ভুক্তভোগী জুবায়ের হোসেন জানান, তেলের পাম্পে গিয়ে একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়েছি। আমার সিরিয়াল আসার আগেই পাম্পের তেল শেষ হয়ে গেছে।
ভূরুঙ্গামারীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আলমগীর আজাদ জানান, বাসা থেকে ১০ কি.মি দূরে তাঁর কর্মস্থল। তেলের অভাবে মোটরসাইকেল বন্ধ রয়েছে। তাই অটো রিকশায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। তাতে সময়মতো অফিসে পৌঁছানো খুব কষ্টকর হয়ে যায়।
এদিকে জরুরি কাজে যাতায়াতেও জনসাধারণের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। এখনই প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক শামসুজ্জোহা সুজন বলেন, সামান্য পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করায় অল্প সময়ের ব্যবধানে বাইক চালকরা পুনরায় ফিলিং স্টেশনে ভিড় করতে বাধ্য হন। এতে একদিকে ব্যাপক পরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে অপরদিকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। জেলার সব ফিলিং স্টেশন থেকে এক সাথে একই সময়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হলে আশা করা যায় ভিড় ও ভোগান্তি উভয়ই কমে যাবে।
মেসার্স সাহা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক কৃষ্ণ পদ বিশ্বাস জানান, রেশনিং পদ্ধতিতে লটারির মাধ্যমে তিন দিন পর পর ডিপো থেকে চাহিদার তিন ভাগের এক ভাগ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এখানে তাদের কিছু করার নেই। যখন যতটুকু তেল পাচ্ছেন তারা সরকারের নিয়োগ করা ট্যাগ অফিসার ও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে সাথে সাথে ঘোষণা দিয়ে বিক্রি করছেন।
ফুয়েল কার্ড প্রদান ও তেল সংকট নিরসনের বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তাঁর দপ্তর থেকে জানানো হয় তিনি ব্যক্তিগত চিকিৎসা নিতে ঢাকায় অবস্থান করায় ফোন রিসিভ করতে পারেননি।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর