টানা দুই সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকা আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে হঠাৎ নিম্নগতি দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মূল্যবান এই ধাতুটির দামে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটে। একই সঙ্গে রূপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামেও বড় ধরনের কমতি লক্ষ্য করা যায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ২.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৬২২ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারস প্রায় ৩.৪ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। টানা চার দিনের ঊর্ধ্বগতির পর এ পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
এদিকে বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরও ‘আক্রমণাত্মক’ সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি দাবি করেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র তার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দেওয়ায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হয়। এর ফলে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৬ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পায়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ফলন এবং ডলার সূচক শক্তিশালী হওয়ায় স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত ডলারের মান বাড়লে স্বর্ণের দাম কমার প্রবণতা দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও উচ্চ সুদের হার স্বর্ণবাজারের জন্য নেতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভের পক্ষ থেকে শিগগিরই সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাও কমে এসেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের আগে সুদ কমার সম্ভাবনা নেমে এসেছে মাত্র ১২ শতাংশে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী দিনগুলোতে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং সুদের হার সংক্রান্ত নীতিই স্বর্ণবাজারের গতিপথ নির্ধারণ করবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর