সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর কাপড়ের হাটে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় কাপড় ব্যবসায়ী মানিক মিয়া (৫৫) ও তার ছেলে অন্তরকে (২৫) প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়েছে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এই ঘটনায় দোকানের মালামাল ও নগদ অর্থ লুটেরও অভিযোগ উঠেছে। আহত অন্তরের পিতা ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন।
গত বুধবার (১ মার্চ) দুপুরে শাহজাদপুর পৌর শহরের রবীন্দ্র কাছাড়ি বাড়ির পাশে কাপড় হাটে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় লোকজন এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে হামলাকারীরা চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, হামলাকারীরা পৌর সদরের দ্বাবারিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গুরুতর আহত অন্তরকে প্রথমে পিপিডি ট্রাস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। অপরদিকে আহত ব্যবসায়ী মানিক মিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
কিশোর গ্যাংয়ের এই হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দিনের বেলায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এমন সশস্ত্র হামলায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এই হামলার নেতৃত্ব এবং কিশোর গ্যাংয়ের মদদদাতাদের খুঁজে বের করে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘হৃদয়ের শাহজাদপুর’ নামে এক আইডি থেকে এই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক নওশাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু অভিযোগ অস্বীকার করে গত বুধবার রাতে দ্বারিয়াপুর বাজারে সংবাদ সম্মেলন করেন পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক নওশাদ। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা দুইভাই শাহজাদপুরে পরিষ্কার রাজনীতি করি, আমাদের নামে কোনো অপবাদ নেই। আমাদের দুই ভাইয়ের নাম জড়িয়ে একটি ভুয়া আইডি থেকে সম্মানহানি করার জন্য মিথ্যা প্রচারণা করা হচ্ছে।” তিনি এই অপপ্রচারের নিন্দা জানান এবং নিরীহ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখমকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকালে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে জানান, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পৌর এলাকার দাবারিয়া গ্রামের হাজী নুর ইসলামের ছেলে আবুল বাশার চেনি (৫৫) ও মজিবর রহমানের ছেলে জালাল উদ্দিন সরকার (৪৩)। এছাড়াও সিসিটিভি বিশ্লেষণ করে জড়িতদের আটক করার চেষ্টা চলছে। আটককৃতরা কিশোর নয় এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, “এনারা মদদদাতা।”
আহত ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, “গতকাল দুপুরে বেশ কয়েকজন কিশোর আমার ছেলে অন্তরকে ডেকে নিয়ে চাঁদা দাবি করে। সে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ২৫-৩০ জনের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ছেলের উপরে হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও তারা কুপিয়ে আহত করে।”
এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে শহরে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন। এসময় সমাবেশে বক্তব্য দেন, উপজেলা দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী মনছুর আলী, সাধারণ সম্পাদক রনি খান শান্ত, হাটের পরিচালক নাদিম হোসেন, রবিউল ইসলাম, শ্রমিক নেতা খোকন আলী প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং চাঁদা না দেওয়ায় এ নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। তারা দাবি করেন, হামলাকারীরা দোকান থেকে প্রায় ৬-৮ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করা হলে দোকান বন্ধ রেখে আন্দোলন করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) মো. হাফিজুর রহমান জানান, আসামিদের আইনের আওতায় আনতে থানা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অপরাধী বা কিশোর গ্যাংয়ের লিডার যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাকে অবশ্যই আইনের মুখোমুখি করা হবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর