সোসাইটি ফর দি এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্টের চেয়ারম্যান ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ জনি বলেছেন, নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশের পরিবেশ। দেশের পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারকে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে, কোন কোন বিষয়ে দ্রত পদক্ষেপ নিতে হবে তা তুলে ধরেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে সোসাইটি ফর দি এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্ট আয়োজিত পরিবেশ রক্ষায় করনীয় শীষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ১৭ টি বিষয়ে তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল লতিফ জনি বলেন, গত ১৭ বৎসর সারা বাংলাদেশে লুটপাট ও দখলের রাজত্ব কায়েম করে পাহাড়, বনভূমি ধ্বংস করা হয়েছে এবং নদীগুলো ভরাট করে নদীমাতৃক বাংলাদেশের হাজার বছরের বহমান নদীগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। যার কারণে আজ বাংলাদেশের পরিবেশ ভারসাম্যহীনতা, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদির প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশের মানুষ প্রতিনিয়ত অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হচ্ছে। নদী ভরাটকারী, পাহাড় ধ্বংসকারী, বন উজারকারী ইটের ভাটা তৈরি করে, এসব পরিবেশ দূষণ কারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে, সেদিন বেশি দূরে নয় বাংলাদেশের উর্বর ফসলীক্ষেত বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মৎস্য প্রজনন স্থান এবং বনে বসবাসকারী প্রাণীসম্পদ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তাই সুষ্ঠ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমান (সম্মানিত চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি) এবং সরকারেন মাননীয় নৌ পরিবহন মন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রী এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছি। উল্লেখিত বিষয়গুলোকে প্রধান্য দিয়ে নদীমাতৃক বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য রক্ষা করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
বিএনপির সাবেক ১ নং সহ দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি পরিবেশ সুরক্ষায় ১৭ টি বিষয়ে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে শীতলক্ষ্যা নদীর উপরে নির্মিত কাঁচপুর ব্রীজ থেকে কুমিল্লার গোমতী নদীর উপর নির্মিত দাউদকান্দি ব্রীজ পর্যন্ত যতগুলো নদী বহমান ছিল, একমাত্র মেঘনা নদী ছাড়া, মেঘনা নদীর শাখা নদীগুলো ভরাট করে বসুন্ধারা গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ ও অন্যান্য শিল্প গ্রুপ এসব শাখা নদী গুলো ধ্বংস করে তাদের নিজস্ব শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। যার ফলে নদী ধ্বংস হয়ে গেছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। এভাবে নদী ধ্বংস করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের কি উপকার হচ্ছে তা জাতির সামনে বড় প্রশ্ন। ঠিক একই ভাবে গঙ্গা, পদ্মা, যমুনা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, কর্ণফুলী, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, ধলেশ্বরী, সুরমা, কুশিয়ারা, গোমতি, ডাকাতিয়া, কাঁকড়ি ও নাফ নদীর শাখা নদী গুলো এবং সিলেটের ঐতিহাসিক জলাশয়গুলো (হাওড়) বিভিন্ন কোম্পানী ও ব্যক্তির নামে ইজারা নামক প্রত্যয়নপত্র দেখিয়ে মাটি ভরাট করে ধ্বংস করে চলছে। বর্তমান নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেতা জনাব তারেক রহমান (সম্মানিত চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি) ও মাননীয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের গর্ব বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ১৯৫২ সালের ভূমি নকশা অনুযায়ী হাওর-বাওড়, খাল-বিল, পুনরুদ্ধার করে বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবেন, বাংলাদেশের মানুষ এই প্রত্যাশা করে।
আব্দুল লতিফ জনি আরো বলেন, বাংলাদেশের বনভূমি রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্তরিক হস্তক্ষেপ ছাড়া বনভূমি রক্ষা করা সম্ভব হবেনা। ঠিক একই ভাবে নদ-নদী, খাল-বিল, হাওর-বাওড় এবং জলাশয় রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহযোগীতা নিয়ে এবং মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আপোষহীন নেত্রী তিন বারের বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক গৃহীত পাশকৃত জলাশয় আইন অনুসৃত নীতির প্রতি শ্রদ্ধারেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বর্তমান সুষ্ঠ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমান (সম্মানিত চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি) এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রীর মর্জি হয়।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর