হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধের কারণে অন্তত ২,১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়েছে, যার মধ্যে ৩২০টির বেশি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে।
সামুদ্রিক তথ্য অনুযায়ী, আটকে পড়া জাহাজগুলোর মধ্যে ১২টি ভেরি লার্জ গ্যাস ক্যারিয়ার এবং ৫০টি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার রয়েছে। শান্তিকালে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে, সেখানে গত মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত মাত্র ৬টি জাহাজ চলাচল করতে পেরেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে অবরোধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।
ইরান নিয়ন্ত্রিত একটি নির্দিষ্ট করিডোর দিয়ে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচল করছে, যেখানে জাহাজ মালিকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে, যা “তেহরান টোল” নামে পরিচিত। তবে ইরানের ঘনিষ্ঠ দেশগুলোর জাহাজের ক্ষেত্রে এই ফি মওকুফ করা হতে পারে।
চীন, মালয়েশিয়া ও ভারতসহ কয়েকটি দেশের কিছু জাহাজ সীমিতভাবে চলাচল করতে পারলেও সৌদি আরব ও কাতারের মতো প্রধান জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলোর রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার নাবিক এই সংকটে আটকে রয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন, অন্যথায় কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগও জোরদার হচ্ছে। ব্রিটেন প্রায় ৩৫টি দেশের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে, আর চীন ও পাকিস্তান অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: Arab News.
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর