ঢাকা সিলেট মহাসড়কের পাশে বন বিভাগের সীমানার ভিতরে দিনে দিনে বাড়ছে অবৈধ স’মিলের সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নবীগঞ্জ ও বাহুবল এই দুটি উপজেলাতে ঢাকা সিলেট মহাসড়কের পাশে ঘেষা অবস্থায় ৪১টির মধ্যে বৈধ স’মিল রয়েছে মাত্র ৩টি, যেখানে অবৈধভাবে চালু রয়েছে ৩৭টি স’মিল। এগুলো ২০০৮ সালের পর থেকে অবৈধ ভাবে চলে আসছে। সমিল মালিকরা জানান, কখনও রাজনৈতিক প্রভাব , কখনও বন বিভাগকে মাসিক চাঁদা দিয়ে চলছে অবৈধ সমিল গুলো। ঢাকা সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এসব সমিল গুলো উচ্ছেদের জন্য বন বিভাগ রহস্যময় কারনে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী তাদের বন বিভাগের জায়গা থেকে ১০ কিলোি মিটার দুরে সমিল গুলোর অবস্থান হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এসব সমিল গুলো তাদের নির্দিষ্ঠ সীমানার ভিতরে কিভাবে চলছে এই প্রশ্ন এখন সবার মাঝে। ২০০৮ সাল থেকে সরকার নিয়ম চালু করে বন বিভাগের ১০ কিলো মিটার সীমানার ভিতরে কোন করাত কল বা সমিল থাকবে না। সরকারের এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মহাসড়কের পাশেই দিবারাত্রি করাত কল বা সমিল গুলো চলছে। অবৈধ স’মিলের সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
প্রশাসনের নাকের ডগায় গড়ে ওঠা এসব অবৈধ স’মিল বন ধ্বংসের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে পরিচালিত এসব স’মিলে প্রতিদিন গোপনে কাটা হচ্ছে সরকারি বনাঞ্চলের শত শত গাছ, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অবৈধ স’মিল রাতের আঁধারে বন থেকে গোপনে গাছ এনে কাঠে রূপান্তর করছে। প্রশাসনের চোখের সামনেই স’মিলগুলো চলছে, অথচ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এলাকাবাসী বলেন, “যেখানে বৈধ মিল ৩টা, সেখানে অবৈধ ৩৭টা এটা কীভাবে সম্ভব? এটা বোঝায় প্রশাসনের ব্যর্থতা কিংবা মদত।” মাসোহারা নিয়ে এসব অবৈধ সমিল গুলো নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব বনাঞ্চলের এই লাগাতার উজাড়ে নবীগঞ্জ ও বাহুবলে দেখা দিচ্ছে পরিবেশগত বিপর্যয়ের লক্ষণ। দিন দিন কমে যাচ্ছে গাছপালা, বাড়ছে উষ্ণতা, কমছে বৃষ্টিপাত এবং হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র। মাটি হচ্ছে অনুর্বর, হুমকিতে পড়ছে কৃষি জমির ফসল।
ঢাকা সিলেট মহাসড়কের পাশে যে সব অবৈধ করাত কল বা সমিল রয়েছে সে গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, নবীগঞ্জের দেবপাড়া ইউনিয়নের আনগাও এলাকায় তিনটি, গজনাইপুর ইউনিয়নে দেওপাড়া, জনতার বাজার, সাতাইহাল এলাকায় তিনটি, কুড়াগাও আমিন উদ্দিন একটি, পানিউমদা বড়াগাঁও এলাকার সাবেক সেনা সদস্য লুৎফুর রহমানের একটি,পানিউমদা বাজারে আজিজ সমিল, বড়চর এলাকায় ইমাম চাবাগানের প্রবেশ মুখে শাহ জাহেদ আলীর একটি, শামসুল হকের একটি, ডুবারাই বাজারে নানু মিয়ার একটি, রোকনপুর গ্রামের আমির হোসেনের একটি, রড়চর শাহ নেয়াজ মিয়ার একটি, পুটিজুরির চেয়ারম্যান মুদ্দতের একটি, রিসোর্ট দি প্যালেলের সামনে ভিআইপি এলাকার সিরাজ মিয়ার একটি,গাংদার বাজার সংকর বাবুর একটি, ডুবাই বাজার সুহেল মিয়ার ্একটি, আজিজুল মেম্বারে ২টি করাত কল বা সমিল রয়েছে। এছাড়াও আরও অনেক সমিল রয়েছে। এসব করাত কলের সামনে কোন সাইন বোর্ড লাগানো নেই। শুধু মাত্র পানিউমদা বড়াগাঁও এলাকার সাবেক সেনা সদস্য লুৎফুর রহমানের করাত কলের মধ্যে একটি সাইনবোর্ড রয়েছে তার নাম ও মোবাইল নাম্বার। তবে তিনি সাংবাদিকদের কাছে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এদিকে তথ্য নিয়ে জানা গেছে তিনটি বৈধ করাত কলের মালিক হলেন, বিএনপির নেতা মুখলেছুর রহমান, বাহুবল উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আকাদ্দছ মিয়া বাবুল ও মীরপুরে আব্দুল আলী।
এবিষয়ে বিএনপির নেতা মুখলেছুর রহমান, বলেন, আমরা বৈধতা নিয়ে করাত কল গুলো চালু করলেও গনহারে বন বিভাগের সাথে সন্ধি করে অবৈধ করাত কল গুলো চলছে, এটা আসলেই দুঃখজনক। এবিষয়ে বাহুবলের ডুবারাই বাজারে সমিল মালিক নানু মিয়া ও রুহুল আমিন বলেন, আমরা নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে সমিল পরিচালনা করছি। তাই প্রশাসন আমাদেরকে কোন ডিস্টাব দেয় না। বন বিভাগের শায়েস্থাগঞ্জ অফিসের রেঞ্জার তোফায়েল স্যার সব সময় আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন। করাত কল মালিক শামসুল হক বলেন, আমরা ২০০৮ সাল থেকে লাইসেন্স আনার চেষ্টা করছি কিন্তু সরকার দিচ্ছে না। আমরা হাই কোর্টের রিট নিয়ে সমিল পরিচালনা করছি। সমিলে আসা আতাউর রহমান খান বলেন, “আমাদের এলাকায় কোন সমিলের কাগজ পত্র নেই। সব গুলো মাসোহারা দিয়ে চলছে, এটা লিখে কোন কাজ হবে না ভাই !” বন বিভাগের শায়েস্থাগঞ্জের রেঞ্জার তোফায়েল চৌধুরী সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা জাতীয় নির্বাচনের আগের সাপ্তাহে আমরা এসব করনাত কল গুলো উচ্ছেদ করি।
নতুন সরকার আসার পরে আবারও এসব করাত কল গুলো নতুন যন্ত্রপাতি এন চালু করা হয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে লাইসেন্স বন্ধ প্রসঙ্গে বলেন, এটা সরকার বন্ধ করলেও করাত কল মালিকরা একটি নতুন আবেদন করে হাইকোর্টে গিয়ে রিট করে আসেন এই জন্য আমরা উচ্ছেদ করতে পারি না। বন বিভাগের শায়েস্থাগঞ্জের রেঞ্জার তোফায়েল চৌধুরীর মাসোহারা নেওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, এই বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আমরা যথাযত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর