সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে গত দেড় বছরে কুখ্যাত বিভিন্ন বাহিনীর ৬১ জন ডাকাত সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় করিম-শরীফ, নান্নু ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে কোস্ট গার্ড। গত দেড় বছরে এসব অভিযানে বিভিন্ন বাহিনীর ৬১ জন ডাকাত সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ মোট ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩০৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি এবং ১,৯৫০ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি জব্দ করা হয়েছে।
একই সময়ে দস্যুদের কবল থেকে ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে কোস্ট গার্ড, যা উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা আরও জানান, ৩ এপ্রিল শুক্রবার ভোর ৬টায় খুলনার দাকোপ থানাধীন বাইনতলা খাল সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও আউট পোস্ট নলিয়ান কর্তৃক চালানো অভিযানে দুটি একনলা বন্দুক, ২৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৫ পিস ইয়াবা ও নগদ ১,১০০ টাকাসহ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ২ সদস্যকে আটক এবং পৃথক অপর অভিযানে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানাধীন হোগলডরা খাল সংলগ্ন এলাকা হতে জোনাব বাহিনীর হাত থেকে মুক্তিপণের দাবিতে জিম্মি ৩ জেলেকে উদ্ধারের মতো সফলতা এই ধারাবাহিক অভিযানেরই অংশ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও জোরদার অভিযান অব্যাহত থাকলে সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত না করা পর্যন্ত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর