বিয়ে হলো একটি প্রচলিত সামাজিক বন্ধন বা বৈধ চুক্তি, যার মাধ্যমে নারী-পুরুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এর মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ ও যৌন সম্পর্ক সামাজিক স্বীকৃতি লাভ করে। বিবাহ বিশ্বজুড়ে সার্বজনীন সংস্কৃতি, যা দম্পতির মধ্যে সমাজ-স্বীকৃত বা আইনগত দায়িত্ববোধ তৈরি করে এবং স্বেচ্ছায় সন্তান সৃষ্টির সুযোগ দেয়। এছাড়া বিবাহ বংশবিস্তার ও উত্তরাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমও হিসেবে কাজ করে।
প্রশ্ন: একই মজলিসে, আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে কি অন্য স্বামীকে গ্রহণ করা যায়?
বাংলাদেশি ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদউল্লাহ এর জবাবে বলেন, এটি জায়েজ নয়। প্রথম স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের পর অবশ্যই নারীকে ইদ্দত পালন করতে হবে। তিন মাসের ইদ্দত শেষ হওয়ার আগে দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ নয়।
ডিভোর্সের কত দিন পর বিয়ে করা যায়
আইনগত সব প্রক্রিয়া মেনে একতরফা অথবা দুই পক্ষের সম্মতিতে ডিভোর্স সম্পন্ন হওয়ার পর যেকোনো দিন পুনরায় বিয়ে করা যায়। তবে নারীদের ক্ষেত্রে খুলা তালাক সম্পন্ন হলেও পুনরায় বিয়ে করার আগে তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে।
ডিভোর্স কার্যকর হওয়ার পর আগের স্বামীর সঙ্গে পুনরায় সংসার
তালাক কার্যকর হওয়ার আগে বা পরে আগের স্বামীর সঙ্গে পুনরায় সংসার করতে চাইলে নিয়মগুলো হলো:
৯০ দিনের মধ্যে: তালাক চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়ার আগে (৯০ দিনের মধ্যে) যদি স্বামী-স্ত্রী পুনরায় মিলে যেতে চান, তবে কেবল ‘তালাক প্রত্যাহার’ করে নিলেই হয়। এক্ষেত্রে নতুন করে বিয়ের প্রয়োজন নেই।
৯০ দিন পার হলে: যদি ৯০ দিন পার হয়ে যায় এবং তালাক কার্যকর হয়ে যায়, তবে আগের স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চাইলে পুনরায় ইসলামি নিয়ম মেনে (মোহরানা নির্ধারণ ও বিবাহ পড়ানো) বিয়ে করতে হবে।
স্বামীর দায়িত্ব ও ভরণপোষণ
আইন অনুযায়ী, তালাক সম্পূর্ণ কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত (অর্থাৎ নোটিশের পর ৯০ দিন পর্যন্ত) দুই পক্ষ আইনসম্মতভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে গণ্য হন। তাই এই সময়কাল পর্যন্ত স্বামী তার স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে বাধ্য। (রেফারেন্স: শফিকুল ইসলাম এবং অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র, ৪৬ ডিএলআর, পৃষ্ঠা ৭০০)।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর