যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
বার্তা সংস্থা Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৪.৮৪ ডলার বা প্রায় ১৩.৬% কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪.৪৩ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম ১৬.১৩ ডলার বা ১৪.৩% কমে দাঁড়িয়েছে ৯৬.৮২ ডলারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমে যাওয়ায় বাজারে এই পতন ঘটেছে। বিশেষ করে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে—যা দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ প্রণালি নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখলে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। এর আগে তিনি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক হামলার হুমকি দিয়েছিলেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araqchi জানিয়েছেন, যদি ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করা হয়, তবে তারাও হামলা স্থগিত রাখবে এবং দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হবে।
তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সতর্কতা দিয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি বাজারে স্বস্তি আনলেও ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি ঘিরে ঝুঁকি থেকেই যাবে। ফলে তেলের দামে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে মার্চ মাসে তেলের দাম ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মাসিক উল্লম্ফন দেখেছিল, যা ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় তাৎক্ষণিকভাবে বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর