মধ্যপ্রাচ্যের ভয়াবহ সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য শান্তির পথ খুঁজতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বৈঠক। কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, তেলবাজারে অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই আলোচনা বিশ্বরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুদ্ধের পটভূমি
প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এরপর শুরু হয় বহু দেশে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষ, যেখানে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট Strait of Hormuz-এ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এই পথ দিয়ে শান্তিকালে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়—ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি দেখা দেয়।
কোথায় ও কখন বৈঠক
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif-এর আমন্ত্রণে শনিবার ইসলামাবাদের রেড জোনে অবস্থিত Serena Hotel-এ শুরু হচ্ছে এই বৈঠক।
সম্ভাবনা রয়েছে, আলোচনা একদিনের বেশি সময় ধরে চলতে পারে—এমনকি ১৫ দিন পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে আলোচনা হতে পারে।
নিরাপত্তা জোরদার করতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সিল করে দেওয়া হয়েছে, প্রবেশপথে কঠোর নজরদারি চলছে এবং ৯–১০ এপ্রিল সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
কারা অংশ নিচ্ছেন
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে:
ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance (প্রধান প্রতিনিধি)
বিশেষ দূত Steve Witkoff
সাবেক উপদেষ্টা Jared Kushner
ইরানের পক্ষ থেকে:
পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf
পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর কোনো প্রতিনিধি থাকবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
আলোচনা কীভাবে হবে
দুই পক্ষ সরাসরি মুখোমুখি না বসে আলাদা কক্ষে অবস্থান করবে—যাকে বলা হচ্ছে “শাটল ডিপ্লোমেসি”।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী Ishaq Dar মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বার্তা আদান-প্রদান করবেন।
এছাড়া পাকিস্তানের সেনাপ্রধান Asim Munir আলোচনায় যুক্ত হতে পারেন—যদিও তা নিশ্চিত নয়।
কেন পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ
পাকিস্তান এই আলোচনায় একটি কৌশলগত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে, কারণ:
ইরানের সঙ্গে ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে
মুসলিম বিশ্বের বড় শক্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা আছে
যুক্তরাষ্ট্রের “মেজর নন-ন্যাটো মিত্র”
দেশটিতে কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নেই—যা ইরানের আস্থা বাড়িয়েছে
আলোচ্য বিষয়: বড় মতপার্থক্য
ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব:
Strait of Hormuz-এ নিয়ন্ত্রণ
মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার
মিত্র গোষ্ঠীর ওপর হামলা বন্ধ
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান:
ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করতে হবে (অ-আলোচনাযোগ্য শর্ত)
এই দুই অবস্থানের মধ্যে বড় ফারাকই আলোচনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
লেবানন: সবচেয়ে বড় সংকট
লেবানন ইস্যু এখন আলোচনার “ব্রেকিং পয়েন্ট” হয়ে উঠেছে।
ইরান বলছে, ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালালে যুদ্ধবিরতি বাতিল হবে।
যুক্তরাষ্ট্র (এবং Donald Trump প্রশাসন) বলছে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতির আওতায় নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যুতে সমাধান না হলে পুরো আলোচনা ভেঙে পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতামত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন:
উভয় পক্ষই নিজেদের “জয়ী” হিসেবে দেখাতে চাচ্ছে
আস্থার ঘাটতি সবচেয়ে বড় বাধা
ইসরায়েলের অনুপস্থিতি আলোচনাকে দুর্বল করছে
তাদের মতে, এই বৈঠকের সবচেয়ে বড় সাফল্য হবে—দুই পক্ষের সরাসরি আলোচনায় বসা।
সূত্র: Al Jazeera, রয়টার্স।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর