ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েলের নীতিকে সমর্থন দিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে দিলে তার নেতিবাচক প্রভাব মার্কিন অর্থনীতিতে পড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর বিরুদ্ধে চলমান বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে। পুরো অঞ্চলে—বিশেষ করে লেবাননসহ—একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে সেই আইনি প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগোতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কূটনৈতিক উদ্যোগকে ভেস্তে যেতে দেয় এবং নেতানিয়াহুকে সেই সুযোগ করে দেয়, তাহলে সেটি তাদের নিজের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে এমন পরিস্থিতির জন্য ইরান প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সংঘাত শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khameneiসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর জবাবে ইরান অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়, যা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে।
পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হয়। এই আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরান একটি ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং Strait of Hormuz-এর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।
এদিকে ইরানের Supreme National Security Council of Iran জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত দেশটির জন্য একটি “ঐতিহাসিক বিজয়” এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে। তবে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই আলোচনা যুদ্ধের সমাপ্তি নয়; বরং এটি সংঘাতের কূটনৈতিক ধারাবাহিকতা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাস এখনো বহাল রয়েছে।
সূত্র: Tasnim News Agency
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর