কক্সবাজারের রামুতে মানবপাচার চক্রের তৎপরতা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সংবাদকর্মীকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
জিডি সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের স্থানীয় দৈনিক আজকের কক্সবাজার বার্তার নিজস্ব প্রতিবেদক নুরুল আলম সাগর গত ১০ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে একটি মুঠোফোন কলের মাধ্যমে হুমকির শিকার হন।
অভিযোগে বলা হয়, দক্ষিণ গোয়ালিয়াপালং এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আজিম (২২) তাকে কল করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পূর্বে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সরিয়ে না নিলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন। এ সময় মারধর ও হয়রানিরও ভয়ভীতি দেখানো হয়।
ঘটনার পরদিন ১১ এপ্রিল রামু থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয় (জিডি নম্বর–৬০২)। জিডিতে আজিমের মামা মোস্তাক আহমদের প্ররোচনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিক সাগরের দাবি, মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরেই এই হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
সাংবাদিক সাগর জানান, সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ গোয়ালিয়াপালংয়ের টাইংগাকাটা এলাকায় সক্রিয় একটি মানবপাচার চক্রের তথ্য উঠে আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোস্তাক আহমদ ও নুরুল করিব (বাদশা) নামে দুজনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার, অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চক্রটি দরিদ্র যুবকদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি তিন থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা আদায় করে। পরে তাদের অবৈধভাবে সাগরপথে পাঠানো হয়। সম্প্রতি সাতজন যুবককে এভাবে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে তারা থাইল্যান্ডে গিয়ে আটক হন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মানবপাচারের পাশাপাশি অপহরণ করে জিম্মি রেখে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে। গত ৩০ মার্চ দুই যুবককে তুলে নিয়ে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোকে পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখান থেকে নারী, শিশু ও পুরুষদের সংগ্রহ করে ট্রলারের মাধ্যমে সাগরপথে পাচার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। ফলে এলাকায় ভীতিকর নীরবতা বিরাজ করছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মোস্তাক আহমদ। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একইভাবে নুরুল করিবও নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
এদিকে, সাংবাদিকের ওপর হুমকির ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং হুমকির শিকার সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ বলেন, জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর