ভারতীয় সংগীত অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র ও কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোসলে মারা গেছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ এপ্রিল) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার নাতনি জানান, অতিরিক্ত ক্লান্তি ও চেস্ট ইনফেকশনের কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
গায়িকার ছেলে আনন্দ ভোসলে মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১টায় লোয়ার পারেলের কাসা গ্র্যান্ডে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে এবং বিকেল ৪টায় শিবাজি পার্কে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
১৯৩৩ সালে পণ্ডিত দীনানাথ মঙ্গেশকর ও শেবন্তীর ঘরে জন্ম নেওয়া আশা ভোসলে প্রায় আট দশক ধরে সংগীত জগতে অবদান রেখেছেন। তিনি ভারতীয় বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে অসংখ্য প্লেব্যাক গান গেয়েছেন, পাশাপাশি অ্যালবাম সংগীতেও তার কণ্ঠ সমানভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
বর্ষীয়ান এ সংগীতশিল্পী যে শুধু সংগীত ইন্ডাস্ট্রিতেই সাফল্য লাভ করেছেন, তা কিন্তু নয়। প্রতিষ্ঠিত গায়িকা হওয়ার পাশাপাশি একজন সফল ব্যবসায়ীও ছিলেন। তার মোট সম্পদের পরিমাণ অনেকটা আশ্চর্যনীয়। আনুমানিক মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা।
সংগীতের পাশাপাশি রান্নাও পছন্দ করতেন আশা ভোসলে। এ জন্য ২০০২ সালে দুবাইয়ে রেস্টুরেন্টের চেইন ব্যবসা শুরু করেন। দুবাইতেই প্রথম রেস্টুরেন্ট চালু করেন, নাম আশা’স। পরে চেইন অনুযায়ী আউটলেট বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ম্যাঞ্চেস্টার, বার্মিংহামেও আউটলেট রয়েছে। রেস্টুরেন্টের বাইরে মুম্বাই ও পুণেতে একাধিক বাড়ি রয়েছে এ গায়িকার নামে। সেসবের মূল্য প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, ১৯৩৩ সালে পণ্ডিত দীনানাথ মঙ্গেশকর ও শেবন্তীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোসলে। প্রায় আট দশক ধরে ভারতীয় বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্র ও অ্যালবামের জন্য গান করেছেন। প্লে-ব্যাক গানের পাশাপাশি অ্যালবামের গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন; যা এখনো শ্রোতাদের মুখে মুখে।
আশা ভোসলে দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ারে ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। ২০০৮ সালে পদ্মভূষণও পেয়েছেন। ১৯৯৭ সালে গ্র্যামির জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। পাশাপাশি জাতীয় স্তরে নানা পুরস্কার পেয়েছেন এ গায়িকা।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর