হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে দেশব্যাপী জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সূত্রে জানা গেছে, সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দেশের সব স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এই টিকা প্রদান করা হবে।
ইপিআই’র সহকারী পরিচালক হাসানুল মাহমুদ জানান, দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা ও ৪টি সিটি করপোরেশনসহ সব এলাকায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রথম ধাপে গত ৫ এপ্রিল কিছু এলাকায় কর্মসূচি শুরু হয়, যা ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। দ্বিতীয় ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া কার্যক্রম চলবে ১২ মে পর্যন্ত। এছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকায় এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ২০ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একইদিনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জিন্দা পার্কে অবস্থিত ‘লিটল অ্যাঞ্জেল সেমিনারি’তে সকাল সোয়া ৮টায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এছাড়া দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।”
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের কিছু নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। যেসব শিশু জ্বরে ভুগছে বা অসুস্থ, তাদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রথম ডোজ নেওয়ার চার সপ্তাহ পূর্ণ না হলে দ্বিতীয় ডোজ না দেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। তাই নির্ধারিত বয়সসীমার সব শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় এনে টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা এর সর্বশেষ খবর