যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রইটার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫.০৮ ডলার বা ৫.৬২ শতাংশ বেড়ে ৯৫.৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড তেলের দাম ৫.০১ ডলার বা ৫.৯৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮.৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি কার্গো জাহাজ জব্দ করার পর দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে এবং তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়, ফলে এটি বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা এবং নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কায় বাজারে আবারও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
একজন জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক বলেন, হরমুজ প্রণালী খোলা থাকার ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে সেখানে ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে জাহাজ মালিকরা এই পথ ব্যবহার করতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতিদিন প্রায় ১ থেকে ১.১ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ এখনো বাধাগ্রস্ত রয়েছে। এতে বৈশ্বিক তেল বাজারের পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
তবে তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ২০টিরও বেশি জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করেছে, যা গত ১ মার্চের পর সর্বোচ্চ। এসব জাহাজে তেল, এলপিজি, ধাতু এবং সার পরিবহন করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর