২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ছয় দিন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে ছিলেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এ সময় তিনি ছিলেন নীরব ও সংযত; প্রয়োজন ছাড়া কারও সঙ্গে খুব একটা কথা বলেননি বলে কারা সূত্র জানিয়েছে।
গত ৭ এপ্রিল ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে লালবাগ থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে হাজির করা হলে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সেদিন রাতেই তাকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে নেওয়া হয়। সেখানে ডিভিশন ভবনের দ্বিতীয় তলায় তার জন্য আগে থেকেই একটি কক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। ৭ এপ্রিল থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ওই কক্ষে অবস্থান করেন।
কারা সূত্র জানায়, পুরো সময় তিনি অত্যন্ত শান্ত ছিলেন এবং প্রয়োজন ছাড়া কারও সঙ্গে কথা বলেননি। ডিভিশন ভবনের দ্বিতীয় তলায় তিনি একাই ছিলেন; অন্য কোনো ডিভিশনপ্রাপ্ত নারী বন্দি সেখানে ছিল না। তার নিরাপত্তায় নারী কারারক্ষীরা কঠোর পাহারায় দায়িত্ব পালন করেন এবং সেবার জন্য একজন সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদিকে নিয়োজিত রাখা হয়।
কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী তিনি নির্ধারিত ডিভিশন সুবিধা ও খাবার পান। ৮ এপ্রিল তার এক নিকট আত্মীয় (চাচাতো ভাই) তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কারা বিধি অনুযায়ী তাকে ডিভিশন ভবনের বাইরে যাওয়ার অনুমতি ছিল না।
১২ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান। এ সময় কারাগারের সামনে তার আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানান, কারাগারে নেওয়ার পরপরই চিকিৎসকরা সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। তিনি সুস্থ ছিলেন এবং সুস্থ অবস্থাতেই জামিনে মুক্তি পান।
তিনি আরও জানান, আগের শারীরিক সমস্যার কারণে নিয়মিত যেসব ওষুধ তিনি সেবন করতেন, সেগুলো সংগ্রহ করে কারাগারে তার জন্য সরবরাহ করা হয়েছিল।
জানা যায়, ৭ এপ্রিল গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা আগে শিরীন শারমিন চৌধুরী ধানমন্ডির ৮/এ সড়কে তার চাচাতো ভাই আরিফ মাসুদ চৌধুরীর বাসায় যান। দীর্ঘদিন যোগাযোগ না থাকলেও হঠাৎ ফোন করে সেখানে যাওয়ার কথা জানান এবং পছন্দের খাবার প্রস্তুত রাখতে বলেন।
মাসুদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিরীন শারমিন চৌধুরী ও তার স্বামী একটি ছোট লাগেজ নিয়ে তাদের বাসায় যান। সেখানে তারা একসঙ্গে রাতের খাবার খান এবং দীর্ঘ সময় আলাপচারিতায় সময় কাটান। পরে গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাসায় পৌঁছে ইন্টারকমে যোগাযোগ করে তল্লাশির কথা জানান। মাসুদ বিষয়টি গোপন না রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করেন এবং শিরীন শারমিন চৌধুরীকেও অবহিত করেন।
এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২ সেপ্টেম্বর তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর