সারা দেশের ন্যায় গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় অত্যন্ত সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে একযোগে উপজেলার ৫টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার প্রথম দিনে উপজেলার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা পরীক্ষার্থী বহিষ্কারের খবর পাওয়া যায়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কালীগঞ্জ উপজেলার ৫টি কেন্দ্রে ৩৬টি বিদ্যালয় ২৯টি মাদ্রাসা থেকে মোট ২ হাজার ৫৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। তবে প্রথম দিনের পরীক্ষায় মোট ৩৫ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। উপজেলার পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো হলো— কালীগঞ্জ আর আর এন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কালীগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়, জামালপুর রাজ মোহন বিদ্যাপীঠ এবং নোয়াপাড়া ময়েজউদ্দিন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়।
পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর ই জান্নাত বলেন, "আমরা অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও সতর্কতার সাথে পরীক্ষা গ্রহণের সকল প্রস্তুতি আগেভাগেই সম্পন্ন করেছি। প্রতিটি কেন্দ্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। কোনো প্রকার অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। আজ প্রথম দিনের পরীক্ষা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। আশাকরি সামনের পরীক্ষাগুলোও এমন সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।"
এদিকে পরীক্ষার শুরু থেকেই কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম। তিনি বিভিন্ন কেন্দ্রের কক্ষ ঘুরে দেখেন এবং পরীক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, "কালীগঞ্জের ৫টি কেন্দ্রই আমরা কড়া নজরদারির আওতায় রেখেছি। পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে এবং কোনো প্রকার মানসিক চাপ ছাড়াই পরীক্ষা দিতে পারে, সেজন্য আমরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাসহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। কোনো কেন্দ্রে কোনো পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়নি, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ সম্মিলিতভাবে কাজ করছে যাতে পুরো পরীক্ষা প্রক্রিয়াটি শতভাগ স্বচ্ছ ও সফল হয়।"
সরেজমিনে দেখা গেছে, কেন্দ্রগুলোর বাইরে অভিভাবকদের ভিড় থাকলেও কেন্দ্রের ভেতরে পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ শান্ত। কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পর্যবেক্ষকরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রের প্রবেশপথে কঠোর অবস্থানে ছিলেন। গরমে পরীক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘবে প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত ফ্যান ও আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন পরীক্ষার সময় লোডশেডিং না হয়।
উপজেলা প্রশাসনের এমন তৎপরতায় অভিভাবক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। আগামী পরীক্ষাগুলোতেও এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর