মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান রুটগুলো নতুন সংকটে পড়েছে। এর ফলে বিশ্বের ব্যস্ততম পানামা খালে জাহাজের নজিরবিহীন ভিড় তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করে খাল কর্তৃপক্ষ তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টোল আদায়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী একটি জাহাজ দীর্ঘ অপেক্ষা এড়াতে প্রায় ৪০ লাখ ডলার অতিরিক্ত অর্থ দিয়েছে। সাধারণত পানামা খাল দিয়ে যেতে জাহাজগুলোকে প্রায় পাঁচ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
পানামা খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খাল দিয়ে প্রতিদিন জাহাজ চলাচল মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও চাহিদা বেড়েছে। জানুয়ারিতে দৈনিক ৩৪টি জাহাজ চলাচল করলেও মার্চে তা বেড়ে ৩৭টিতে পৌঁছেছে। কোনো কোনো দিনে ৪০টির বেশি জাহাজও চলাচল করেছে।
আগে যেখানে গড় নিলাম মূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার, সেখানে এখন তা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার ডলারে পৌঁছেছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ৫ শতাংশ এই পানামা খাল দিয়ে হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলকে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে সংযুক্ত করে একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে কাজ করে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে পানামা খাল দিয়ে ৬ হাজার ২৮৮টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
এদিকে, এশীয় দেশগুলো এখন মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। ফলে এই বিশাল দূরত্ব পাড়ি দিতে তারা সুয়েজ খাল বা মধ্যপ্রাচ্যের ঝুঁকিপূর্ণ পথের চেয়ে পানামা খালকে নিরাপদ মনে করছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং এশিয়ার বাজার সংযোগ স্থাপনে এই খাল এখন বিশ্ব বাণিজ্যের নতুন মেরুদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে খাল কর্তৃপক্ষের আয় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। তবে এই রেকর্ড আয় সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে এই আকাশচুম্বী যাতায়াত খরচ যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি আরও উসকে দিচ্ছে। ব্যবসায়িক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন যদি হরমুজ প্রণালির উত্তেজনা সহসা না কমে তবে পানামা খালের ওপর এই চাপ স্থায়ী রূপ নিতে পারে।
সূত্র: গালফ নিউজের।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর