অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি জানান, এ ধরনের অর্থনৈতিক কাঠামোর ফলে দেশের সম্পদ কিছু অলিগার্কের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। অতীতে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক মানুষের হাতে বিপুল অর্থ জমা হয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা সহজ নয়। বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে, যা পুনরুদ্ধার করা যে কোনো সরকারের জন্যই কঠিন।
তিনি আরও বলেন, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে, যেমন ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড।
শনিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, দেশে দারিদ্র্যের হার ধীরে ধীরে কমছে। তবে অনেক ব্যবসায়ী এখনও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ ও ব্যাংক ঋণ শোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আগামী বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুধু একাডেমিক ডিগ্রি অর্জন যথেষ্ট নয়, বাস্তবমুখী দক্ষতা বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে ভোকেশনাল শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
এছাড়া তিনি বলেন, সরকার টাকা ছাপিয়ে ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। ভুল তথ্য দেশের ক্রেডিট রেটিংকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তিনি জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের ব্যাংক ঋণ ছিল ১৭ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা, যা ২২ এপ্রিল কমে ১১ হাজার ৭২২ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
সভায় অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ইআরএফ-এর পক্ষ থেকে ২১ দফা বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি দৌলত আকতার মালা।
এসময় সংগঠনের সহসভাপতি আশরাফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, অর্থসম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা প্রস্তাবনার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
অর্থসচিব বলেন, পণ্য রপ্তানি না করে প্রণোদনা নেওয়ার সুযোগ আর থাকবে না। এক্রুয়াল ভিত্তিক বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে, তবে এটি সম্পন্ন করতে সময় লাগবে। পাশাপাশি জিডিপি-কর অনুপাত বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে জোর দেওয়া হয়েছে। বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু এবং পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে। এজন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র হালনাগাদের কাজ চলছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর