রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্র উপদেষ্টা ড. আমিরুল ইসলাম কনকের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যে “শিক্ষক শিক্ষকের মতো থাকেন, না হলে কান বরাবর পড়বে” এমন হুমকির অভিযোগ উঠেছে রাবি শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি বললেন পূর্ব শক্রতার জেরে ওই ছাত্রদল নেতা এই মন্তব্য করেছেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম। তিনি নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। মন্তব্যটি প্রকাশের পর তা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
এ নিয়ে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করেন , শিক্ষককে উদ্দেশ করে এ ধরনের মন্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা এ ধরনের আচরণের নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়বদ্ধতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে ছাত্র উপদেষ্টা ড. আমিরুল ইসলাম কনক বলেন, “আমি চাই সারাদেশে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হোক এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগী হোক। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেকে নিজের ক্যারিয়ার গঠনের দিকে না গিয়ে অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে। মনের কষ্ট থেকেই আমি ওই পোস্টটি দিয়েছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, “ওই মন্তব্যটি আমার কাছে অশোভন মনে হয়েছে। ক্যাম্পাসের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে কিছু আপত্তিকর মন্তব্যের জবাবে আমি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলাম। তবে এসব বিষয় সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে খারাপ দেখায়, তাই পরে মন্তব্যের অপশন বন্ধ করে দিই।”
হুমকির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পরবর্তীতে আবার মন্তব্যে আমাকে ‘শিক্ষকের মতো থাকতে’ বলে এবং ‘না হলে কান বরাবর পড়বে’ এ ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি তাকে ভাষা সংযত করতে বলেছি।আমি বিষয়টি সিনিয়র শিক্ষকদের অবহিত করব।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, স্যার আমাদের ওই নেতাকে মুজিব (বর্তমান বিজয়-২৪) হলের ২৩৭ নাম্বার রুমে এক ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীকে দিয়ে মারধর করেছিলো। ছাত্রলীগের সাথে উনি চলাফেরা করতেন। উনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন মব বিষয়ে তখন আমাদের ওই নেতা কমেন্ট করার পর উনি বলেছিলো তোর মতো ভেড়াকে ঘাস খাওয়াবো। এ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব শক্রতার জেরে এমন একটা মন্তব্য করেছিল।
তিনি বলেন, আমি আমাদের ছাত্রনেতার কোনো দোষ দেখছি না, উনি এ বিষয়টা আরো দায়িত্বশীল ভাবে সমাধান করতে পারতেন। এটা আমি মনে করি শিক্ষক হিসাবে উনি ছাত্রকে এভাবে মন্তব্য করতে পারে না, এখানে ছাত্রের থেকে শিক্ষকের অপরাধটাই বেশি মনে করছি।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর