• ঢাকা
  • ঢাকা, বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২১ সেকেন্ড পূর্বে
আবুবকর সম্পদ
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৩৯ দুপুর

ছাত্র রাজনীতিতে ব্যতিক্রমী নাম আসলাম, এবার আলোচনায় যুবদলে

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পর এবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোতে সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া জোরদার হওয়ায় যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে মহানগরের এই কমিটি। আর এই কমিটির দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি পদে তৃণমূল নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সাবেক সফল সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসলাম।

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা এবং দুঃসময়ে সংগঠনকে ধরে রাখার সক্ষমতার কারণে তিনি নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। দলীয় লবিং বা প্রকাশ্য তদবিরের বদলে সম্পূর্ণ নিজের ত্যাগ ও মাঠপর্যায়ের কর্মদক্ষতার কারণেই তার নাম এই শীর্ষ পদের জন্য জোরালোভাবে আলোচনায় আসে।

বরগুনা জেলার বেতাগী থানার বিবিচিনি গ্রামের এক মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া আসলামের শিক্ষা জীবন বেশ উজ্জ্বল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি শেষ করে পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ইএমবিএ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি। স্কুল জীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শে যুক্ত হন আসলাম। কলেজে ওঠে ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসেন। পরবর্তীতে ২০০৪-২০০৫ শিক্ষাবর্ষে জবিতে ভর্তি হয়ে ক্যাম্পাস রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

১/১১-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন থেকে শুরু করে আওয়ামী শাসনামলের দীর্ঘ দুই দশকে তিনি অসংখ্যবার পুলিশ ও প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন। ২০০৬ সালে জবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতর আহত হওয়া, ২০১১ সালে হরতাল চলাকালে পুলিশ-ছাত্রলীগের যৌথ হামলায় পা ভেঙে যাওয়া, এবং ২০১৭ সালে বকশীবাজার আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় ইটের আঘাতে কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার মতো ভয়াবহ স্মৃতির সাক্ষী তিনি। এমনকি ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ এবং ২৯ জুলাইয়ের অবস্থান কর্মসূচিতেও তিনি একাধিকবার গুলিবিদ্ধ হন।

এত বাধা, মামলা ও শারীরিক ক্ষত সত্ত্বেও তিনি কখনো রাজপথ ছাড়েননি। বিশেষ করে ২০২৩ সালের পর যখন বিরোধী দলগুলোর ওপর তীব্র দমন-পীড়ন চলছিল, তখন আসলামের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে জবি ছাত্রদল রাজপথে প্রতিটি কর্মসূচি সফল করে দেশব্যাপী আলোচনায় আসে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও তার নেতৃত্বে জবি ছাত্রদল সম্মুখসারিতে থেকে এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়। ৫ আগস্টের পর পুরান ঢাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তায় রাত জেগে পূজামণ্ডপ পাহারা দিয়ে সর্বস্তরের মানুষের স্নেহভাজন হয়ে ওঠেন তিনি।

মো. আসাদুজ্জামান আসলাম সমসাময়িক ছাত্র রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী ও অনুকরণীয় নাম। একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বড় ইউনিটের সভাপতি থাকা সত্ত্বেও তিনি সম্পূর্ণ সৎ ও পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করেছেন। নিজের খরচ চালাতে ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি তিনি নিয়মিত ৫ থেকে ৬টি টিউশনি করাতেন, যা পদ ছাড়ার পরও অব্যাহত রেখেছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ছাত্রনেতা আসলামের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ছাত্রদলের চরম দুঃসময়ে আসলাম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামে তার অবদান ছিল অপরিসীম। প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও অনন্য মেধা, সততা ও অসাধারণ বিনয় তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা এবং সমাদৃত করে তুলেছে।

একইভাবে আসলামের ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, আসলামের মতো বিনয়ী ও অমায়িক ছাত্রনেতা সমসাময়িক রাজনীতিতে সত্যিই বিরল। একাধারে মেধাবী ও কঠোর পরিশ্রমী এই তরুণের মাঝে নেতৃত্বের সকল গুণাবলি বিদ্যমান। আমি শুনেছি ছাত্ররাজনীতি করার পাশাপাশি সে টিউশনি করত, যা আজকের তরুণদের জন্য নীতিবান হওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

শুধু মাঠের রাজনীতিই নয়, আসলামের এক ভিন্ন সৃজনশীল সত্ত্বাও রয়েছে। তিনি একজন কবি ও সাহিত্যিক। সমাজের অনিয়ম, অন্যায়, দুর্নীতি এবং প্রতিবাদের ভাষা তুলে ধরে ইতোমধ্যে তার ‘নয়নতারা’, ‘প্রেক্ষাপট’, ‘কল্পিত নয়’ ও ‘সংমিশ্রণ’ শিরোনামে চারটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত ও প্রশংসিত হয়েছে।

এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান আসলাম বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সংগঠনকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। দলের সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে সবসময় সামনের সারিতে ছিলাম। দল যদি আমাকে দায়িত্ব দেয়, তাহলে পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যুবসমাজকে আরও সুসংগঠিত করার চেষ্টা করব। তারেক রহমানের রাজনৈতিক নির্দেশনা বাস্তবায়নে গণমুখী ও শক্তিশালী যুবদল গড়ে তোলাই হবে প্রধান লক্ষ্য।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ দুই দশকের রাজপথের পরীক্ষিত ত্যাগ, সততা, মেধা এবং বৈচিত্র্যময় ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের কারণেই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের হাল ধরার জন্য আসাদুজ্জামান আসলামই এখন সবচেয়ে যোগ্য ও সময়োপযোগী নাম।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]