• ঢাকা
  • ঢাকা, সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১২ সেকেন্ড পূর্বে
আব্দুল ওয়াদুদ
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:০৬ বিকাল

দাখিল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিভ্রাট: বগুড়ায় ২৯ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় দাখিল পরীক্ষা ২০২৬-এর গণিত পরীক্ষায় চরম দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের হাতে অনিয়মিত (ইরেগুলার) সিলেবাসের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়ায় ২৯ জন শিক্ষার্থীর ফলাফল এখন অনিশ্চয়তার মুখে। গত রোববার (২৬ এপ্রিল) শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের ১০১ ও ১০২ নম্বর কক্ষে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই কেন্দ্রে রাজার দিঘি দাখিল মাদ্রাসার ১৩ জন, ফুলতলা দাখিল মাদ্রাসার ১০ জন, চকসাদি দাখিল মাদ্রাসার ৩ জন এবং উলিপুর আমেরিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসার ৩ জনসহ মোট ২৯ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী অংশ নেন। পরীক্ষা চলাকালীন কক্ষ পরিদর্শকরা নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র বিতরণে ওলটপালট করে ফেলেন। ফলে নিয়মিত ২৯ জন পরীক্ষার্থী অনিয়মিতদের প্রশ্নে এবং অনিয়মিত ২৯ জন পরীক্ষার্থী নিয়মিতদের প্রশ্নে এমসিকিউ পরীক্ষা দেয়। কক্ষ প্রত্যবেক্ষকদের কড়াকড়িতে একে অপরের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ভুল প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা দিয়ে হল ত্যাগ করে। পরে বাড়ি ফিরে প্রশ্ন মেলাতে গিয়ে বিষয়টি জানাজানি হলে কান্নায় ভেঙে পড়ে পরীক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী রিমু, আতিয়া ও সাদিয়া আক্ষেপ করে বলেন, "আমরা নিয়মিত সিলেবাসে প্রস্তুতি নিয়েছি, কিন্তু আমাদের দেওয়া হয়েছে অনিয়মিতদের প্রশ্ন যা সিলেবাসের বাইরে ছিল। পাস নম্বর তোলাও এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমাদের সারাবছরের কষ্ট ও স্বপ্ন ধুলোয় মিশে গেছে।" অভিভাবক আল আমিন ও ইসমাইল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বোর্ড পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন ভুল মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের সন্তানদের এই মানসিক ক্ষতির দায়ভার কে নেবে? তারা এখন আগামী পরীক্ষাগুলো দিতেও ভয় পাচ্ছে।"

কেন্দ্র সচিব ও শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান এবং ট্যাগ অফিসার নাঈম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তারা বিষয়টিকে 'অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল' হিসেবে দাবি করে জানান, পরীক্ষার সময় এটি কারো চোখে পড়েনি, রাতে তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই সময়ে কক্ষ প্রত্যবেক্ষক হিসেবে ৮ নং কক্ষে আছমা খাতুন ও জুয়াইরিয়া সুলতানা এবং ৯ নং কক্ষে মামুনুর রশিদ দায়িত্বে ছিলেন। প্রশ্ন বিতরণের আগে যাচাই না করায় এই বিপর্যয় ঘটেছে।

শেরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, "প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আমরা দ্রুত শিক্ষা বোর্ডকে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ নজর রাখা হচ্ছে।"

এদিকে ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ info@bd24live.com
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ office.bd24live@gmail.com