মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি-র সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক বরিস ইয়েলৎসিন প্রেসিডেনশিয়াল লাইব্রেরিতে।
রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, পুতিন বলেন, “আমরা এমন সব পদক্ষেপ নেব, যা ইরানসহ পুরো অঞ্চলের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে এবং দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।”
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বিরোধ, সামরিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা নেওয়ার ইঙ্গিত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে, ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের নানা সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের চেষ্টা করে আসছে।
বৈঠকে পুতিন ইরানের জনগণের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বলেন, তারা যেন বর্তমান “কঠিন সময়” ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শেষ পর্যন্ত এই সংকট কাটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি সরাসরি সামরিক সমাধানের পরিবর্তে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার কোনো বিকল্প নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার এই অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এতে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তনের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র-timesofisrael.
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর