ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি গ্রুপ-এর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ থাকা একটি ইউনিট পুনরায় চালু হয়েছে। ফলে এখন কেন্দ্রটির দুই ইউনিট থেকেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত পৌনে আটটা থেকে পুনরায় চালু হওয়া ইউনিটটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হতে শুরু করে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।
পিডিবি সূত্রে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি ইউনিট হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যায়। সে সময় দুই ইউনিট মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪৯৯ মেগাওয়াট উৎপাদন হলেও দুপুরের পর তা কমে সাড়ে ৭০০ মেগাওয়াটে নেমে আসে, যা জাতীয় গ্রিডে চাপ সৃষ্টি করে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ-এর তথ্য অনুযায়ী, ত্রুটির সময় ইউনিটটির একটি বিয়ারিং থেকে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যায়। সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়াতে প্রকৌশলীরা দ্রুত উৎপাদন বন্ধ করে দেন। পরে ত্রুটি শনাক্ত করে মেরামত শেষে ইউনিটটি আবার চালু করা হয়।
ঝাড়খণ্ডের এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে মোট প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়, যা চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। ২০২৩ সালের মার্চে প্রথম ইউনিট এবং জুনে দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনে যুক্ত হয়।
এদিকে, আদানি গ্রুপের দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশের কাছে তাদের প্রায় ৬৮৮ মিলিয়ন ডলার পাওনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এই বকেয়া দ্রুত পরিশোধের আহ্বান জানিয়েছে এবং সতর্ক করেছে, দীর্ঘদিন পরিশোধ না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ-এর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আদানি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রণব আদানি এ সতর্কবার্তা দেন।
তবে এই বকেয়া নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। পিডিবির দাবি, আদানি কয়লার দাম বেশি ধরে বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করছে। এ কারণে উভয় পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে সিঙ্গাপুরে সালিশ প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আদানি জানিয়েছে, মোট পাওনার মধ্যে ৩৯৩ মিলিয়ন ডলার বিতর্কহীন।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর