• ঢাকা
  • ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২০ সেকেন্ড পূর্বে
মোঃ এস হোসেন আকাশ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৪২ রাত

অতিবৃষ্টিতে হাওরে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের সোনালী ধান

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টিসহ তুফান ও বজ্রপাত চলছে। বৃষ্টিতে পানি বাড়ার পাশাপাশি বজ্রপাতের ভয়ে মাঠে ধান কাটতে নামতে পারছেন না কৃষকেরা। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তাঁরা।

বিস্তীর্ণ হাওর। চোখ যেদিকে যায়, পানির নিচে শুধু ধান আর ধান। দুই দিন আগেও এসব ধান বাতাসে দুলছিল। সোনালি রঙ ধারণ করা ধানের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়েছিল হাওর জুড়ে। পাকা ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কৃষকেরা। এরই মধ্যে ঘটে যায় সর্বনাশ।

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার উৎসব চলছিল পুরোদমে। কিন্তু সেই আনন্দে হঠাৎই ছন্দপতন ঘটিয়েছে টানা অতিবৃষ্টি। গত তিনদিনের ভারী বর্ষণে হাওরের নিম্নাঞ্চলে পানি জমে গেছে। বিশেষ করে জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে খোয়াই নদীর পানি ঢুকে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধানক্ষেত। ফলে কৃষকের স্বপ্নের সোনালী ফসল এখন ডুবে যাচ্ছে পানির নিচে।

খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর হাওরে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকেরা ‘গলাডোবা’ ধান কাটছেন। নৌকা দিয়ে ধান কেটে পাড়ে আনা হচ্ছে। অতিরিক্ত শ্রমিক খরচ করে কোনো রকমে কেউ কেউ ধান কেটে তুলছেন। অনেক জমির ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। যে ধান কয়েক দিনের মধ্যে ঘরে তোলার কথা ছিল, তা এখন পানির নিচে। হাঁটু বা কোমড় পানিতে নেমে কেউ কেউ ধান কাটলেও অনেক কৃষকই আশা ছেড়ে দিয়েছেন।

অতিবৃষ্টির কারণে শুধু জমিই নয়, ধান শুকানোর খলাতেও পানি জমেছে। এতে ধান মাড়াই ও সংরক্ষণেও দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি।

নিকলী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার আক্তার ফারুক জানান, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন সোমবার ২৪ ঘণ্টায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। বুধবারও (২৯ এপ্রিল) বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে জেলার বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় নিম্নাঞ্চলের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় পানি নামেনি, বরং কোথাও কোথাও আরও বাড়ছে। অষ্টগ্রাম উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ইটনা, মিঠামইন, নিকলী, তাড়াইল, করিমগঞ্জ ও বাজিতপুরের হাওর এলাকাতেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জমিতে পানি বেড়ে যাওয়ায় যন্ত্র দিয়ে ধান কাটা ব্যাহত হচ্ছে।

মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে আব্দুল্লাহপুর হাওরে এবার ১০ একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন কৃষক রতন মিয়া (৬৫)। পুরো পরিবারের খাওয়া-দাওয়া, সন্তানদের লেখাপড়াসহ সব খরচই চলে এই ধান থেকে। কিন্তু শ্রম-ঘামে ফলানো সেই ধান এবার তলিয়ে গেছে পানিতে। এক ছটাক ধানও ঘরে তুলতে পারেননি তিনি। সামনে একটি বছর কীভাবে চলবে, ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করবেন- এই দুশ্চিন্তায় দিশাহারা রতন মিয়া। শুধু রতন মিয়াই নন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে হাওরে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তার মতো ক্ষতির মুখে পড়েছেন হাজারো কৃষক। পরিবেশ না মেনে হাওরে উঁচু রাস্তা নির্মাণ, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, পলি জমে নদী ভরাট হওয়া এবং ফসলরক্ষার বাঁধের ত্রুটির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অষ্টগ্রামের খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর এলাকার কৃষক ফুল মিয়া বলেন, অতিবৃষ্টিতে আমাদের এলাকার শত শত একর ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। অনেক জমিতে পানি বেড়ে যাওয়ায় মেশিন দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে না। চোখের সামনে কষ্টের ফসল ডুবে যাচ্ছে, আমরা অসহায়।

রতন মিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময়ে ভেজা কাপড়ে ধানক্ষেত থেকে উঠে আসেন কাবিল মিয়া (৬০)। হাতে থাকা আধাপাকা ধান দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘দেহুইন, দুই-একদিন গেলেই কাটার চেষ্টা করতাম। পানির নিচের ধান এহন কেমনে কাটাম? ধান পইচ্চা কালা অয়া যাইতাছে। চোখের সামনে ধান নষ্ট অইয়া যাইতাছে। কইলজাডারে মানাইতে পারতেছি না।’ বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। একই গ্রামের কৃষক হযরত আলী (৫৫) বলেন, উজানের পানি নামলেই এই হাওরে পানি ঢুকে পড়ে। হবিগঞ্জ সীমান্তের শিবপুর এলাকার খোয়াই নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রতি বছরই অষ্টগ্রাম অংশে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। লাখাই উপজেলার শিবপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম (৪৮) জানান, তার ৯ একর জমির মধ্যে সাত একরই তলিয়ে গেছে। পানি না কমলে বাকি জমিও তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে জমিতে পানি জমে থাকায় ধানগাছের গোড়ায় পচন ধরেছে। একই এলাকার কৃষক রমজান আলী (৬০) বলেন, দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এবার বোরো আবাদ করেছিলেন। ধান বিক্রি করেই ঋণ পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু ধান পাকতে শুরু করতেই তা পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন ঋণ শোধ ও সংসার চালানো- দুটোই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কিশোরগঞ্জে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৮৯ টন। বৈশাখের শুরু থেকেই হাওরে ধান কাটা শুরু হয়। অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান বলেন, পলি জমে নদীর পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় অষ্টগ্রামের হাওরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব পেতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। তিনি জানান, ধানগাছ ৫-৬ দিন পানির নিচে থাকলে ক্ষতি বাড়বে, এর আগে পানি নেমে গেলে ক্ষতি কম হতে পারে।

এদিকে কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, এখনো হাওরের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে টানা বৃষ্টিতে পানি বাড়ছে। আগাম বন্যার হাত থেকে বাঁচতে ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই কৃষকরা কেটে ঘরে তুলতে সেইজন্য আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া ছিল।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]