• ঢাকা
  • ঢাকা, বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৩৩ সেকেন্ড পূর্বে
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিডি২৪লাইভ ডট কম
প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৪০ বিকাল

বাউফলে চিকিৎসক ছাড়াই টেকনিশিয়ান এর হাতে রোগী

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

ডাক্তার রোগী দেখার পূর্বেই রোগীর রোগ নির্ণয়ের জন্য করা হয়েছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেওয়া হয়েছে চিকিৎসা। যখন এ কর্মকান্ড সম্পন্ন তখনও ডাক্তার ওই রোগী থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে। এমনই ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকের সামনে ঠিক কুড়ি ফুট দূরত্বে কথামনি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ৩টার দিকে দেখা মিলেছে এমন ঘটনার।

উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের মো. জাহাঙ্গীর (৫০) তীব্র পেটে ব্যাথা নিয়ে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্য সকাল সাড়ে আটটায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সামনে কথামনি ডায়াগনস্টিক সেন্টার আসেন। তখন ডায়াগনস্টিক কতৃপক্ষ ৫/১০ মিনিটের ভেতরে ডাক্তার আসতেছেন বলে রোগীকে অপেক্ষা করতে বলেন। এরপর শুরু হয় ডায়াগনস্টিক সেন্টার কতৃপক্ষের তালবাহানা, ডাক্তার আসছে-আসছে বলে রোগীর থেকে নেওয়া হয় রক্ত ও প্রসাব। করানো হয় এক্সরে, রক্ত ও প্রসাব পরীক্ষা আর এ-সবই করছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্মচারী মাহবুবুর রহমান। এভাবে সময়ক্ষেপণ করে বেলা ৩টার দিকে রোগীকে Andol ও Emistat 8mg নামে দুটো ইনজেকশন কেনার জন্য পাঠানো হয় পাশের ফার্মেসীতে। তখনও পেটের ব্যাথায় কাতরাচ্ছিলেন জাহাঙ্গীর।

ভুক্তভোগী মো. জাহাঙ্গীর বলেন, গতরাতে পেটের ব্যাথায় একটুও ঘুমাতে পারিন, সারারাত মাটিতে গড়াগড়ি দিয়েছি চিৎকার করে কান্না করেছি। সকাল সাড়ে আটটায় এখানে আসছি এখনো ডাক্তার আসে নাই কিন্তু আমার রক্ত, প্রসাব নিয়ে পরীক্ষা করা হয়ে গেছে। ডাক্তার ৪ টায় আসবেন জানালে সরকারি হাসপাতালে যেয়ে চিকিৎসা নিতাম কিন্তু তাঁরা আমাদের মিথ্যা বলেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ব্যবসায়ী বলেন, কথামনি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারী মাহবুবের টেকনিশিয়ান সার্টিফিকেট না থাকা স্বত্তেও তিনি নিয়মিত এক্স-র করেন। এছাড়াও তিনি ডাক্তার সেজে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকন।

ডায়াগনস্টিক সেন্টার কতৃপক্ষ নার্গিস আরা স্বপ্না অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ডাক্তারের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলে রোগীর টেস্ট ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এবিষয়ে ডা. মো: সাইফুল ইসলাম (শামিম) মুঠোফোনে জানান , আমি বরিশাল থেকে আসতেছি, আমি ৪ টায় চেম্বার করি এটা সবাই জানে। মিথ্যা বলে সকাল থেকে অসুস্থ মানুষকে বসিয়ে রাখলে এটা মিস লিডিং হয়ে যাচ্ছে। মোবাইলে টেষ্ট ও চিকিৎসা দেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি রোগীদের সচেতন হওয়ার কথা বলেন।

মোবাইলে তিনি গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ চালিয়ে যেতে বলা হলেও রোগীকে গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ না দিয়ে ব্যাথা নাশক ও বমি বন্ধ হওয়ার ঔষধ দেওয়া হয়েছে। যদিও রোগীর বমি ভাব কিংবা বমি হচ্ছিল না।

এবিষয়ে কথামনি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেকনিশিয়ান মো. মাহবুবুর রহমান এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রউফ বলেন, কোন রেজিট্রার্ঢ চিকিৎসকের অবর্তমানে ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী কতৃক ওই চিকিৎসকের চিকিৎসাপত্রে পরীক্ষা নিরীক্ষার উপদেশ দেওয়া, চিকিৎসা প্রদান করা এবং ওই রোগীকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে অপেক্ষা করানো গর্হিত অপরাধ। যদি কেউ এধরণের অপরাধ করে থাকেন তাহার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

এবিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মো. খালিদুর রহমান মিয়া বলেন, একজন চিকিৎসকের চিকিৎসা পত্রে চিকিৎসক ব্যতীত অন্য কারো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া কিংবা ঔষধ লেখা অপরাধ। এরকম হলে আমার তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা নেব।

সাজু/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]