• ঢাকা
  • ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৯ মিনিট পূর্বে
মোঃ এস হোসেন আকাশ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৬ মে, ২০২৬, ০৭:১৪ বিকাল

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের খাবার আত্মসাতের অভিযোগ

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার সুতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রবিউল আউয়ালের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ মিড-ডে মিলের খাবার আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের করা লিখিত অভিযোগ, মানববন্ধন ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন সত্ত্বেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩ ডিসেম্বর মোস্তাক হাসান ইমন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালকের কাছে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ দাখিল করেন। একই ধরনের অভিযোগ ৩০ ডিসেম্বর করিমগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও জমা দেওয়া হয়। এর আগে ২৩ অক্টোবর মো. রায়হান উদ্দিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। এছাড়া ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত আরেকটি অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও জমা দেওয়া হয়।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১১ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত ওই শিক্ষক দীর্ঘ ১৪-১৫ বছর ধরে একই বিদ্যালয়ে কর্মরত। ২০১৯ সালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠে। এলাকাবাসীর দাবি, অন্য স্কুলে বদলি করা হলেও প্রভাব খাটিয়ে তিনি পুনরায় একই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।

সোমবার (৪ মে) সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে ও স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বললে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।

বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. ফুরকান উদ্দিন বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম করে আসছেন। তিনি নিয়মিত স্কুলে আসেন না, ক্লাস নেন না। এই শিক্ষকের শ্বশুরবাড়ি এই এলাকায়, বর্তমানে মিড-ডে মিলের রুটি, কলা ও ডিম ব্যাগে ভরে তার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান। বারবার শিক্ষা অফিসে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি।”

অভিভাবক মো. মুর্শিদ বলেন, “অনেকবার মিটিং হয়েছে, কিন্তু তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ঠিকমতো পড়াশোনা হয় না।”

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সিরাজ মিয়া অভিযোগ করেন, “স্কুলে লেখাপড়ার মান খুবই খারাপ। একবার বদলি হলেও আবার প্রভাব খাটিয়ে ফিরে এসেছেন।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রবিউল আউয়াল বলেন, “বিদ্যালয়টি হাওড় এলাকায় হওয়ায় যাতায়াতে সমস্যা রয়েছে। ধান কাটার মৌসুমে নৌকা সংকটের কারণে সময়মতো আসা-যাওয়ায় বিঘ্ন ঘটে। এছাড়া শিক্ষক সংকট রয়েছে, ৬ জনের স্থলে মাত্র ২ জন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালাতে হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

তিনি বলেন, “এখানে শুধুমাত্র একটা ফ্যামিলি বার বার আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে তাদের সাথে আমার কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ নাই বা তাদের সাথে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নাই কিন্তু কি কারণে এই ফ্যামেলিটা আমার পিছনে লাগছে আমি জানিনা।”

এ সময় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে উপস্থিত থাকা স্কুলের জমিদাতা দাবি করা আসাদুজ্জামান আসলাম বলেন, “আমরা পাবলিকরা দেখেছি যে স্যার দপ্তরির মাধ্যমে মিড-ডে মিলের ডিমগুলো শ্বশুরবাড়িতে নিয়েছেন। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে দুই দিন ডিম সিদ্ধ না থাকায় দপ্তরি সেগুলো প্রধান শিক্ষকের শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে গিয়ে সিদ্ধ করে আবার স্কুলে নিয়ে এসেছে। ডিস্ট্রিবিউটর সিদ্ধ না করেই ডিম সরবরাহ করেছিল।”

ডিম সিদ্ধ করা প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “সরাসরি দায়িত্ব না হলেও শিক্ষার্থীদের পরিবেশনের জন্য ডিম প্রস্তুত করা প্রয়োজন।” এসময় তার কথার সাথে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রবিউল আউয়াল সাই দিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, মিড-ডে মিলের খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করে সরাসরি স্কুলে পাঠানোর কথা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব শুধু তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঠিকভাবে বিতরণ করা।

করিমগঞ্জ উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার মৃদা বলেন, “আমি বর্তমানে ট্রেনিংয়ে আছি। একদিন অফিসে এসে সরাসরি কথা বলুন, আপনার যা জানার আছে, বিস্তারিত আলোচনা করবো।” অভিযুক্ত শিক্ষকের শ্বশুরবাড়ি থেকে মিড-ডে মিলের ডিম সিদ্ধ করে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা যদি সত্য হয়ে থাকে, অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

করিমগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বদলি করা হয়নি, তাকে সাময়িকভাবে অন্য একটি বিদ্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি সামগ্রিকভাবে খতিয়ে দেখার জন্য করিমগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

মাসুম/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]