যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বরগুনায় পালিত হয়েছে জুলাই শহীদ দিবস। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে বরগুনা সার্কিট হাউস মাঠে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়।
বরগুনার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ তাছলিমা আক্তার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সময়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা, সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নুরুল আমিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ূন হাসান শাহিন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সালেহ ফারুক, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ওয়াসি মতিন, প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মনির হোসেন কামালসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ার ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সজল চন্দ্র শীল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে কয়েক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরবর্তীতে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের চারবারের সংসদ সদস্য আলহাজ নুরুল ইসলাম মনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মোল্লা ও বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অলিউল্লাহ- তিনি ফোনে যুক্ত হয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার আত্মত্যাগের পর সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সেই আত্মত্যাগের স্মৃতি চিরস্মরণীয় করে রাখতে বর্তমান সরকার ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
বরগুনার জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার দিবসটি উপলক্ষে জেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ আলোচনা সভা আয়োজনের নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি জেলার সব মাদ্রাসায় সুবিধাজনক সময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বিশেষ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের আহ্বান জানান।
বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর