• ঢাকা
  • ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১ ঘন্টা পূর্বে
জিসান নজরুল
ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০ মে, ২০২৬, ১১:০০ রাত

ইবির শহিদ জিয়া হলে সিট ফাঁকা, তবুও বরাদ্দ নেই

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহিদ জিয়াউর রহমান হলে আবাসিকতা নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। হল প্রশাসন সিট বরাদ্দ দিলেও অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত আসনে উঠতে পারছেন না। একইসঙ্গে কয়েকটি কক্ষে আসন ফাঁকা থাকলেও সেখানে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। বরাদ্দ না দেওয়া অধিকাংশ কক্ষেই শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীসহ কিছু শিক্ষার্থী অবৈধভাবে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। ফলে এসব কক্ষে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে প্রশাসন নতুন করে সিট বরাদ্দ দিচ্ছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এদিকে হলে অবস্থানরত অবৈধ শিক্ষার্থীদের বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে হল প্রশাসন। তবে প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে “অবিবেচক” উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

হল সূত্রে, গত ১৩ ডিসেম্বর আবাসিকতার আবেদনের জন্য নোটিশ প্রকাশ করে হল কর্তৃপক্ষ। পরে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে মেধাক্রম ও একাডেমিক ফলাফলের ভিত্তিতে ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত ৮৫ শিক্ষার্থীকে হলের সিট বরাদ্দ দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে উল্লেখ ছিল, ১৪ এপ্রিল বিভিন্ন কক্ষ যাচাই-বাছাই করে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং উল্লিখিত কক্ষে কেউ অবৈধভাবে অবস্থান করলে তার সিট বৈধ বলে গণ্য হবে না। তবে বরাদ্দকৃত অধিকাংশ সিটে আগে থেকেই অবৈধভাবে কিছু শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। ফলে বরাদ্দপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা বরাদ্দকৃত সিটে উঠতে পারছেন না। অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ শাখা ছাত্রদলের কর্মী বলে জানা গেছে। এর প্রতিবাদে গতকাল তিন শিক্ষার্থী হল প্রভোস্টের কক্ষে তালা লাগিয়ে সেখানেই বিছানা পেতে আন্দোলন করেছেন।

হল প্রশাসনের দেওয়া তথ্য মতে, হলটিতে বর্তমানে অন্তত ২২ জন অবৈধ শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। তারা হলেন, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ট্যুরিজমের সাফিন আহমেদ (রুম নং: ৩১৬)। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ফিন্যান্সের আনিসুর রহমান (৩১৪), মার্কেটিংয়ের আব্দুল্লাহ হোসাইন (৩০৩), দাওয়াহ‘র আহসান হাবিব (৩১৬)। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যানের পার্থ প্রতিম চক্রবর্তী (৩০৫)ও ব্যবস্থাপনার রায়হান আহমেদ অভি (১০৭)। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ইসলামের ইতিহাসের সালিম সাদমান (২৩৪), হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টের সাব্বির আহমেদ (৩০৩), হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টের আরিফুল ইসলাম (১১১), ট্যুরিজমের তানজিল হোসেন প্রিন্স (২২৩), আল-ফিকহের তোফায়েল আহমেদ (২২৮), আল-ফিকহের সাকিবুল ইসলাম (২২৭), অর্থনীতির মাহাথির মোহাম্মদ (১৩২), লোক প্রশাসনের ইমরান মন্ডল (১১৬), ইংরেজির সাকিব রানা (৩১৬), আইনের তাছলিমুল ইসলাম (৪২৪), হিসাববিজ্ঞানের সাব্বির হোসাইন রিয়াদ (২২৮), আরবীর আলিনুর রহমান বাঁধন (২১৭), আরবীর সামসুজ্জামান (৩১৮), ব্যবস্থাপনার আজাদুল ইসলাম তুহিন (১০৭) এবং জার্নালিজমের প্রত্যয় ব্রহ্মচারী (১০৭)। এছাড়া ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ফিন্যান্সের সিদ্দিক হোসাইন (২৩১)। যারা হল প্রশাসনের অনুমোদন ব্যতীত হলে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন। পরে তারা হল প্রশাসনের বিনা অনুমতিতে টাকা জমা দিয়ে এখনও অবস্থান করছেন। বর্তমানে তাদের অবস্থানরত ওই সিটগুলো প্রশাসনের হালনাগাদে কাগজে-কলমে ফাঁকা রয়েছে। এছাড়া আরো অনেকেই অবৈধভাবে অবস্থান করলেও হল প্রশাসন তাদের তথ্য দিতে পারেনি।

তবে অবস্থানকারী এসব অবৈধ শিক্ষার্থীকে বৈধ করতে নোটিশ দিয়েছে হল প্রশাসন। নোটিশে বলা হয়েছে, যে সকল শিক্ষার্থী অত্র হলের বিভিন্ন কক্ষে বৈধ আবাসিকপ্রাপ্ত নয় তাদেরকে হল অফিসের নির্ধারিত টাকা দিয়ে আগামী ১১ এপ্রিলের মধ্যে জমা দিতে বলা হলো। এছাড়া যদি কেউ উভয় সম্মতিক্রমে রুম পরিবর্তন করতে চায় তাদেরকে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে অফিসে আবেদনপত্র দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন রুমে সিট বরাদ্দ দেওয়ার পর অনেকগুলো সিট এখনও ফাঁকা রয়েছে। ফাঁকা সিটগুলো হলোÑ ১০৭ নং রুমে ২টি, ১২৯ নং রুমে ২টি, ২১০ নং রুমে ১টি, ২২১ নং রুমে ১টি, ২২৩ নং রুমে ১টি, ২২৫ নং রুমে ১টি, ২২৬ নং রুমে ১টি, ২২৭ নং রুমে ১টি, ২৩০ নং রুমে ১টি, ২৩১ নং রুমে ১টি, ২৩২ নং রুমে ১টি, ২৩৪ নং রুমে ১টি, ৩০৩ নং রুমে ২টি, ৩০৫ নং রুমে ১টি, ৩১৬ নং রুমে ১টি, ৩৩০ নং রুমে ১টি, ৪২৪ নং রুম ১টি, ৪২৫ নং রুমে ১টি, ৪২৬ নং রুমে ১টি, ৪২৮ নং রুমে ১টি এবং ৪৩৩ নং রুমে ১টি সিট। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফাঁকা সিটগুলোতে অনেক অবৈধ শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন।

এদিকে প্রশাসনের বরাদ্দ দেওয়া রুমগুলো হলোÑ ১০৬, ১১১, ১১৩, ১১৫, ১১৮, ১১৯, ১২৩, ১২৪, ১২৮, ১২৯, ১৩১, ১৩২, ২০২, ২০৪, ২০৬, ২০৭, ২০৮, ২১০, ২১১, ২১২, ২১৫, ২১৬, ২৩২, ২৩৩, ৩০৫, ৩০৬, ৩১১, ৩১২, ৩১৩, ৩১৫, ৩১৮, ৩১৯, ৩২০, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩২৭, ৩২৮, ৩২৯, ৩৩০, ৩৩১, ৩৩৫, ৪০২, ৪০৪, ৪০৮, ৪০৯, ৪১১, ৪১৪, ৪১৫, ৪১৭, ৪১৯, ৪২১, ৪২৭, ৪২৮, ৪৩০ ও ৪৩৫। তবে এর মধ্যে ১১৩, ১১৫, ১১৯, ১২৩, ২০২, ২০৮, ২১৫, ৩০৬, ৩১৫, ৩২৫, ও ৩২৭, ৩৩৫, ৪১১, ৪১৫, ৪১৯ নম্বর কক্ষে সিট বরাদ্দ পেয়েও আগে থেকে অবৈধভাবে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের কারনে সিটে উঠতে পারছেন না বলে জানা গেছে।

এদিকে জিয়া হলের ২২৫ নম্বর কক্ষে প্রায় এক মাস ধরে একা অবস্থান করছেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূর উদ্দীন। কক্ষটিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি আসন ফাঁকা থাকলেও প্রশাসন এখনো সেখানে নতুন করে বরাদ্দ দেয়নি। অন্যদিকে শাখা ছাত্রশিবিরের এইচআরডি সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সাদ্দাম হোসেন হলের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে জিয়া হলের ৩২৩ নম্বর কক্ষে অবস্থান করতেন। অভিযোগ রয়েছে, শিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে তিনি ওই হলে অবস্থান করছিলেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের সকল নিয়ম মেনে সিট বরাদ্দ পাওয়ার পরও আমরা সিটে উঠতে পারছি না। কারণ আগে থেকে সেখানে অনেক অবৈধ শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন। তারা সিট ছাড়ছেন না। এছাড়া যাদের রাজনৈতিক প্রভাব আছে তাদের রুমে সিট ফাঁকা থাকলেও প্রশাসন সিট বরাদ্দও দিচ্ছে না। তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অবস্থান করে আসছেন।

কক্ষ বরাদ্দ পাওয়া হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী তাহসিফ আজম বলেন, আমাকে যে কক্ষে সিট দেওয়া হয়েছে সেখানে গিয়ে দেখি সিট ফাঁকা নেই। মেস ছেড়ে দিয়েছি, এখন আমার থাকার জায়গাও নেই। প্রশাসন কোনো সমাধানও দিচ্ছে না।

শাখা ছাত্রশিবিরের এইচআরডি সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রভোস্টের অনুমতি নিয়েই জিয়া হলের শিক্ষার্থী শাহরিয়ারের সঙ্গে রুম একচেঞ্জ করেই তার রুমে ছিলাম। বর্তমানে আমি সেখানে থাকি না, গত তিনমাস ধরে মেসে আছি। আর শাহরিয়ার আমার বৈধ আসনে অবস্থান করছেন। কিছুদিন পর আমরা আবার নিজ নিজ হলে ফিরে যাবো। শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূর উদ্দীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী বলেন, হল কর্মকর্তাদের সংগ্রহ করা তথ্যে এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদেরকে শোকজ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। অতিদ্রুত সবগুলো সিটের পুনঃহালনাগাদ করা হবে। অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]