• ঢাকা
  • ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৩৪ মিনিট পূর্বে
নূর-ই-আলম সিদ্দিক
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১ মে, ২০২৬, ০৮:১২ রাত

কচাকাটা থানাকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলার দাবিতে ত্রাণ মন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানাকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা করার দাবিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। রবিবার (১০ মে) কুড়িগ্রামে তার সরকারি সফরের প্রাক্কালে কচাকাটা বাসী এই স্মারকলিপি প্রদান করেন। এসময় তিনি কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনের জন্য জায়গা পরিদর্শন করেন। পরে দুপুরে জেলায় খাল খননের কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন এবং বিকেলে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দের সাথে একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

এসময় কচাকাটা থানার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু মাননীয় মন্ত্রীকে স্মারকলিপিটি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে জানানো হয়, কচাকাটা একটি প্রাচীন ও জনবহুল অঞ্চল। বর্তমানে প্রশাসনিকভাবে এটি একটি থানা হিসেবে পরিচালিত হলেও ভৌগোলিক অবস্থা, জনসংখ্যা, যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, আয়তন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের দিক থেকে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হওয়ার দাবি রাখে।

স্মারকলিপিতে কচাকাটা থানাকে উপজেলার দাবির অন্যতম কারণগুলো তুলে ধরা হয়। এরমধ্যে দুধকুমর, গঙ্গাধার, সংকোষ এবং ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা দ্বারা বেষ্টিত কচাকাটা থানা। এই থানার সাথে জেলা সদর থেকে নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা হয়ে যোগাযোগ করতে সড়ক পথে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হয়। কচাকাটা থানার আওতাধীন পূর্ণাঙ্গ ৫টি ইউনিয়ন হলো কচাকাটা, বলদিয়া, বল্লভের খাস, কেদার, মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন নারায়ণপুরসহ কালীগঞ্জ, বামনডাংঙ্গা, বেরুবাড়ী, রায়গঞ্জ ইউনিয়নের একাংশ অঞ্চল পড়েছে। এছাড়াও সরকারি দপ্তরের কৃষিসেবা, সমাজসেবা, প্রাণিসম্পদ, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষাসেবার পাশাপাশি ০৪টি কলেজ, ৭৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪টি মাদ্রাসা, ১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব ইউনিয়নের সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীসহ প্রায় ৪ লক্ষাধিক সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক এবং দৈনন্দিন কাজকর্মের জন্য দীর্ঘ সময় এবং অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ একটি উপজেলা না হওয়ায় ভারতের আসাম রাজ্যের সীমান্তবর্তী থানার আওতাধীন মানুষের দুর্ভোগ ও ভোগান্তি কমছে না।

অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় কচাকাটা থানা জনপদ কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এছাড়াও কচাকাটা থানায় একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভাবে প্রসূতি মা, শিশু ও বৃদ্ধ রোগীরা দ্রুত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জরুরি চিকিৎসা নিতে এই জনপদের মানুষকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০ কিলোমিটার, নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬০ কিলোমিটার এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে যেতে হয়। জরুরি কিংবা উন্নত চিকিৎসার অভাবে প্রাণহানির মতো ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। পূর্ণাঙ্গ উপজেলা না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় এই অঞ্চলে বাল্যবিয়ের হারও বেশি।

স্থানীয় সচেতন মহল জানান, কচাকাটা থানাকে একটি উপজেলা ঘোষণা করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো সম্ভব। এছাড়াও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন হবে। ভারতের আসাম রাজ্যের সাথে স্থলবন্দর থাকায় সীমান্তবর্তী ব্যবসা-বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনা এখানে বিদ্যমান। এছাড়াও প্রস্তাবিত দুধকুমার নদীর উপর সেতু নির্মিত হলে কচাকাটা থানার সাথে জেলা সদরের প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ কমে আসবে এবং প্রস্তাবিত ভুটান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে কচাকাটা থানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে কচাকাটা থানাটি উপজেলায় উন্নতি হলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক উন্নয়ন করা সম্ভব হবে যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

গণমাধ্যমকর্মী আব্দুল কুদ্দুস চঞ্চল ও মনিরুল ইসলাম মিলন জানান, কচাকাটা থানাকে একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা বাস্তবায়নের দাবিতে ২০১১ সাল থেকে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, গণসংযোগ ও গণসাক্ষরসহ নানা কর্মসূচি পালন হয়ে আসছে। অবহেলিত এই অঞ্চলের মানুষের নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কচাকাটা থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ছে।

কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও জনদাবির প্রেক্ষিতে ২০০৩ সালে পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে কচাকাটা প্রশাসনিক থানা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু এখানকার বিপুল জনগোষ্ঠীর নাগরিক সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে কচাকাটাকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা সময়ের দাবি। দুর্গম চরাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ যেন সহজে সরকারি সেবা পায়, উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত হতে পারে এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমে আসে। সেই লক্ষ্যেই কচাকাটাকে উপজেলা করার জোর দাবি জানাচ্ছি। এটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]