• ঢাকা
  • ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২৫ মিনিট পূর্বে
জিসান নজরুল
ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২ মে, ২০২৬, ০১:০৬ দুপুর

ছাত্রশিবিরের নাম জড়িয়ে ছাত্রদল নেতার চাঁদা দাবি, প্রতিবাদ সংগঠনটির

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের নাম জড়িয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতার কাছ থেকে চাঁদা দাবির ঘটনার প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী এবং সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি এ নিন্দা জানান।

বিবৃতি তারা বলেন, "সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডের মাধ্যমে ইবি ছাত্রদল নেতা আবু সাঈদ রনির যে চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যের চিত্র ফুটে উঠেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ছাত্ররাজনীতির জন্য কলঙ্কজনক। ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ক্ষুণ্ন করে ছাত্রদল ক্যাম্পাসগুলোতে পুনরায় চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য ও ভয়ভীতির সংস্কৃতি কায়েম করতে চায়। আমরা এই চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রশাসনের নিকট এর সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।"

তারা আরও বলেন, "উক্ত অডিও ক্লিপ থেকে জানা যায়, ছাত্রদল নেতা রনি চাঁদাবাজি করার সময় অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ছাত্রশিবিরের নাম জড়িয়ে বলেছেন: 'সমন্বয়ক কও, শিবির কও, আমাদের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি কও-সব জায়গায় টুকটাক যাবে।' আমরা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির একটি নিয়মতান্ত্রিক, আদর্শিক সংগঠন। ছাত্রদল নেতা চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্য করতে গিয়ে ছাত্রশিবিরের নাম জড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছে, তার সাথে ছাত্রশিবিরের ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক নেই। নিজের অপরাধ আড়াল করতে ও ছাত্রলীগের নেতার নিকট চাঁদাবাজির বৈধতা দিতে ছাত্রশিবিরের নাম ব্যবহার করা একটি চরম ধৃষ্টতা এবং গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।"

​বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করেন, "ফাঁস হওয়া অডিওতে উক্ত ছাত্রদল নেতা দাবি করেছেন: 'শিবির ও সমন্বয়কদের মাধ্যমে মামলা দেওয়া হলেও ছাত্রদল তা সমন্বয়ের চেষ্টা করছে।' এই বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের দোসরদের বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো হয়েছে, তা ছাত্র-জনতার ওপর চালানো জুলুমের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া। এখানে কোনো অপরাধীকে আইনি প্রক্রিয়া থেকে বাঁচানোর নামে 'কেস-কামারি' বা অর্থ আত্মসাতের সাথে ছাত্রশিবিরের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। একই সাথে ক্যাম্পাসে ছাত্রদল-ছাত্রলীগ মিলেমিশে সব ঠিকঠাক করা এবং শিবিরের বিরুদ্ধে এক হওয়ার যে ইঙ্গিত অডিওতে এসেছে, তা থেকে প্রমাণিত হয় যে, ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশ ও সুযোগসন্ধানীরা এখনও ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে কতটা মরিয়া।"

​ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে কোনো প্রকার চাঁদাবাজ, জালিয়াতি ও মামলা খাদকদের স্থান হতে পারে না। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সাথে, নিজের ব্যক্তিস্বার্থ ও চাঁদাবাজির জন্য ছাত্রশিবিরের নাম জড়ানোর অপচেষ্টা থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিরত থাকার আহ্বান করছি।"

এর আগে মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের শীর্ষ পদ প্রত্যাশী এক নেতার বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একাধিক অডিও কলের রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। অডিওতে ওই ছাত্রদল নেতাকে এক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার কাছ থেকে মামলা ‘হোল্ড’ রাখার কথা বলে লক্ষাধিক টাকা দাবি করতে শোনা যায়। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ রনি।

ফাঁস হওয়া অডিওতে আবু সাঈদ রনি ছাত্রলীগ নেতাকে বলেন, একটি মামলার তালিকায় কয়েকজনের নাম এসেছে, টাকা দিলে বিষয়টি ‘হোল্ড’ রাখা যেতে পারে। ছাত্রদল-ছাত্রলীগ একসাথেই ক্যাম্পাসে সব ঠিকঠাক করে, শিবিরের বিরুদ্ধে সবাই। এসময় ছাত্রলীগ নেতা রনিকে শিবির সমন্বয়করা মামলা দিচ্ছে কি-না এমন প্রশ্ন করলে রনি বলেনÑ হুম, কিন্তু ছাত্রদল সেখানে ইন্টারফেয়ার না করলে সেটা ছাত্রদলেন জন্য নেতিবাচক। এসময় ছাত্রলীগ নেতা রনিকে কাকে কত টাকা দিতে হবে জিজ্ঞেস করলে রনি উত্তরে বলেনÑ তুই কত টাকা দিতে পারবি সেটা বল, আমি এডজাস্ট করে বলবো, এখন তাৎক্ষণিক কত দিতে পারবি? রাজনৈতিক জায়গা থেকেই তোর সবকিছু করেছে। তাছাড়া সরকার না পড়লে তো তোর এসব কিছুই হতো না বা নির্বাচন হয়ে গেলেও তোদের এসব কেস হতো না। রনি বলেন- টাকা সবজায়গায় দেওয়া লাগবে, ‘সমন্বয়ক কও, শিবির কও, আমাদের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি কও সব জায়গায় টুকটাক যাবে। তুই কত দিতে পারবি তাৎক্ষণিক সেটা জানা, আমি তাহলে সেভাবেই স্যারের কাছে বলে আপাতত তোর বিষয়টি হোল্ডে রাখি। এসময় ছাত্রলীগ নেতা বলেন, তুই আপাতত হোল্ডে রাখ, বাড়িতেও তো একটু ঝামেলা। তখন রনি বলে, তোর ঝামেলা কিসের তোর বাপ প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার।

আরেকটি কথোপকথোনে রনি ছাত্রলীগ নেতাকে বলেন, কয়েকজনের নাম আপাতত হোল্ডে রাখা হয়েছে। এসময় ছাত্রলীগ নেতা টাকা কমানোর জন্য শিবির ও সমন্বয়কদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ চাইলে ও কাকে কত দিতে হবে জানতে চাইলে রনি উত্তরে বলেন- বিষয়গুলো ছাত্রদলের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি ওদের সাথে ঠিক করবে। কারও কারও কাছ থেকে ৫০/৩০/২০ হাজার টাকা দিয়েও বিষয়গুলো ম্যানেজ করার চেষ্টা চলছে। তবে তোর আর্থিক স্বচ্ছলতা বেশি থাকায় হয়তো বেশি চাওয়া হয়েছে।

সাজু/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]