• ঢাকা
  • ঢাকা, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৪ মিনিট পূর্বে
প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ৩১ মে, ২০২৬, ০৬:৪৭ বিকাল
এনডিটিভির প্রতিবেদন

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে অমিত শাহের ‘নীলনকশা’

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় এবং কেন্দ্র ও রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’ প্রতিষ্ঠার পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয়গুলো রাজনৈতিক আলোচনায় থাকলেও এবার প্রশাসনিক পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বাস্তবমুখী ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তার মতে, কোনো প্রতীকী বা প্রচারনির্ভর উদ্যোগ নয়, বরং আইনসম্মত, কূটনৈতিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ এবং কার্যকর পদক্ষেপই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সীমান্তে কথিত অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে ফেরত পাঠানোর পরিবর্তে প্রমাণভিত্তিক শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের পর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উত্তেজনা এড়াতে চায় নয়াদিল্লি।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শুধু নিরাপত্তা নয়, এটি মানবিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গেও জড়িত। এ কারণে নতুন পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগণের স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২ হাজার ২১৭ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর বড় অংশে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও উল্লেখযোগ্য এলাকা এখনো বেড়াহীন। নদী, জলাভূমি, চরাঞ্চল ও দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থার কারণে কিছু এলাকায় প্রচলিত পদ্ধতিতে বেড়া নির্মাণও সম্ভব হচ্ছে না।

নতুন প্রশাসনের অধীনে সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিএসএফকে অতিরিক্ত জমি হস্তান্তর এবং নতুন সীমান্ত চৌকি নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শিলিগুড়ি সংলগ্ন কয়েকটি এলাকায় ইতোমধ্যে নতুন করে বেড়া নির্মাণ শুরু হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ ও প্রশাসনিক জটিলতা দীর্ঘদিন এ প্রকল্পের প্রধান বাধা ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী অনেক মানুষের দাবি, অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে কাঁটাতারের বেড়ার কারণে কৃষিকাজ, যাতায়াত এবং জীবিকায় যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ভারতীয় প্রশাসন বর্তমানে ‘শনাক্তকরণ, যাচাই ও বহিষ্কার’ নীতির আওতায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পরিকল্পনা করছে। মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ২৪ পরগনার মতো সংবেদনশীল জেলাগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুরো সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ বাস্তবসম্মত নয়। ভূমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ, পরিবেশগত জটিলতা, আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

বিশেষ করে সীমান্তের ১৫০ গজ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং জিরো লাইনের কাছাকাছি অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে দুই দেশের অবস্থানগত পার্থক্য প্রকল্প বাস্তবায়নকে জটিল করে তুলেছে। পাশাপাশি নদীমাতৃক এলাকায় স্থায়ী বেড়া নির্মাণও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারত এখন স্মার্ট ফেন্সিং, থার্মাল সেন্সর, ড্রোন, ক্যামেরা ও আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রচলিত কাঁটাতারের বেড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত সমস্যার সমাধান শুধু অবকাঠামো বা প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্ভব নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজনীতি, কূটনীতি, অভিবাসন, স্থানীয় অর্থনীতি এবং সামাজিক বাস্তবতা। ফলে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত কৌশল ছাড়া এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন হবে।

যদিও সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ নতুন গতি পেয়েছে, তবুও বিপুল পরিমাণ বেড়াহীন এলাকা, আইনি জটিলতা এবং ভৌগোলিক বাধার কারণে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]