জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম আবহাওয়া, ভূরাজনৈতিক সংঘাত ও বাণিজ্যিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। গত আগস্টে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্যসূচক বেড়ে ২০২২ সালের শেষের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এফএওর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগস্টে এফএওর খাদ্য মূল্যসূচক ১৩৩ দশমিক ৩ পয়েন্টে উঠেছে। জুলাইয়ে সংশোধিত এই সূচক ছিল ১৩০ দশমিক ৮ পয়েন্ট। অর্থাৎ এক মাসে সূচক বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ। তবে এটি ২০২২ সালের মার্চে রেকর্ড করা সর্বোচ্চ মাত্রার তুলনায় এখনও প্রায় ১৭ শতাংশ কম।
এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা বৈশ্বিক খাদ্যবাজারে ঝুঁকি ফিরে আসার একটি সতর্কসংকেত। চরম আবহাওয়া, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্য ও পরিবহনব্যবস্থায় সম্ভাব্য বিঘ্ন সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।
আগস্টে এফএওর আওতাভুক্ত সব প্রধান খাদ্যপণ্য শ্রেণির মূল্য বেড়েছে। এর মধ্যে খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল, চিনি, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য রয়েছে।
খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক আগস্টে আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এতে সূচকটি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ।
চিনির বাজারে ছিল আরও বড় উত্থান। আগস্টে চিনির মূল্যসূচক ১১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। ব্রাজিল, ইউরোপ ও এশিয়ার প্রতিকূল আবহাওয়া চিনি উৎপাদনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাবও এশিয়ার পাম তেল ও চিনি উৎপাদনের ওপর ঝুঁকি তৈরি করছে।
এদিকে ইউরোপের তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরা কৃষি উৎপাদনে চাপ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন ও ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য ও পরিবহনব্যবস্থায় বিঘ্নের আশঙ্কা বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
কমছে বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস
এফএও ২০২৬ সালের বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাসও কমিয়েছে। জুলাইয়ের পূর্বাভাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন কমিয়ে উৎপাদনের সম্ভাব্য পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ দশমিক ৯৮০ বিলিয়ন টন।
নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে বৈশ্বিক শস্য উৎপাদন প্রায় ২ শতাংশ কমতে পারে। এফএওর হিসাবে, এটি ২০১৮ সালের পর বার্ষিক উৎপাদনে সবচেয়ে বড় পতন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে উৎপাদন কমার আশঙ্কা, অন্যদিকে সংঘাত ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক খাদ্যবাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর