নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত একটি কর্মসূচির মঞ্চ ও প্যান্ডেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছিল। এর আগে শুক্রবারও একই স্থানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ফল উৎসব উপলক্ষে কয়েকদিন ধরে মাঠে মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ চলছিল। শুক্রবার রাতে কিছু ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে সেখানে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে এবং নির্মাণাধীন মঞ্চ-প্যান্ডেল ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রশাসনের সহায়তায় আবারও প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়।
তবে শনিবার বিকেলে প্রায় ৫০–৬০টি মোটরসাইকেলে করে আরেকটি দল এসে মঞ্চে হামলা চালায় এবং চেয়ার-টেবিল ভেঙে ফেলে ও প্যান্ডেল খুলে দেয়—এমন অভিযোগও উঠেছে। এ সময় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং অনেকে নিরাপদ স্থানে সরে যান বলে জানা যায়।
এনসিপির নেতাকর্মীদের দাবি, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই এ ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটে, যা রাজনৈতিক সহনশীলতার পরিপন্থী।
তবে সুলতান মাহমুদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তাকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন জানিয়েছেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য একটি পক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মেহেদী ইসলাম বলেন, এনসিপির একটি অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আয়োজকরা নির্বিঘ্নে তাদের কর্মসূচি পালন করতে পারবেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর