প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল বলেছেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সর্বনিম্ন সম্পদ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন সিগনেচার কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন সিগনেচার কর্মসূচির বাস্তবায়ন অগ্রগতি’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) জন কেনেডি জাম্বিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. কামরুল হাসান, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা এবং ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের দপ্তরপ্রধানরা।
বক্তব্যে ড. আব্দুল আওয়াল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতির উন্নয়ন। খাল খনন কর্মসূচি, তৈরি পোশাক শিল্প, রেমিট্যান্স, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসসহ বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একইভাবে ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রবর্তিত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থা এবং নারী শিক্ষার প্রসার দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
তিনি আরও বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সিগনেচার প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে সিস্টেম, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিমূলক নানা উদ্যোগ।
তিনি বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল আসক্তি কমিয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলামুখী করা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্সের পাশাপাশি কৃষিপণ্য, চামড়া ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা এবং জনবান্ধব কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতেই এ ধরনের মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সিগনেচার প্রোগ্রামগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশ ও জাতি আরও সমৃদ্ধ হবে এবং “সবার আগে বাংলাদেশ” বাস্তবে রূপ লাভ করবে। সভায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর