স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা চূড়ান্ত করার আগে রাজনৈতিক দল ও সাধারণ নাগরিকদের মতামত নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি জনমত আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, কমিশনের অনুমোদনের পর সংশোধিত বিধিমালার খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে ভোটের বিধান বাদ দেওয়ার বিষয়টিও সংশোধিত বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
সোমবার (০৮ জুন) নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত ধারণা যে বিজ্ঞপ্তি দিব, আপনাদের সাথে মিডিয়াতে কথা বলবো, আর রাজনৈতিক দলগুলো যেগুলো আছে তাদেরকে চিঠি দিব। এর আগে কমিশন সভা করবো। অতীতেও এভাবেই হইছে।
কমিশন সভা কবে হবে-জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিশন সভা এক্সাক্টলি বলতে পারতেছি না। আশা করতে পারি যে মোটামুটিভাবে এই সপ্তাহের শেষে অথবা আগামী সপ্তাহে হবে বলে আমার ধারণা।
ইউনিয়নের পরিষদের আচরণবিধি মোটামুটি ফাইনাল-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফাইনাল মানে কি ড্রাফট স্টেজে আমাদের লেভেলে এটা ঠিকঠাক করা হয়েছে। বাকিটুকু কমিশন অনুমোদন করে নিলে দেন আমরা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো ভেটিংয়ের জন্য।
তিনি বলেন, দলীয় ভাবে স্থানীয় নির্বাচন হবে না। ওই পোরশনটুকু বাদ যাচ্ছে। আইনের ধারাবাহিকতায় তো সংশোধন লাগতেছে।
যারা বিগত সরকারে যে রাজনৈতিক দলের, সেই রাজনৈতিক দলের সদস্য এবং নামে মামলাও আছে সেখানে তারা কি ভোটে অংশ নিতে পারবেন-এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, আইনগতভাবে যদি যেখানে নিষেধাজ্ঞা আছে, যাদের মামলা আছে, চারশিটভূক্ত; তাদের ক্ষেত্রটা এক ধরনের। কিন্তু আপনার যেমন বলা যেতে পারে যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তো আপনার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কোনো ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। তাহলে এখানে কেন নেসেসারি।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ যদি অফিস বেয়ারার না হয়, তাহলে সে করবেন।সেক্রেটারি পদে যদি থাকে, উনার যদি মামলা থাকে তাহলে সেভাবে হবে। এগুলো তো অনেক পরের ব্যাপার।
সন্ত্রাস বিরোধী আইনে বলা আছে ওই দল (আওয়ামী লীগ) করাটাই অপরাধ, একজন সাংবাদিক এমন বিষয় উত্থাপন করলে ইসি সচিব বলেন, এগুলো হচ্ছে যে আইনের চর্চার ব্যাপার। আপনি যেটা বলছেন এখন এই প্রভিশনগুলো আপনার এখানে কতটুকু.. আমি স্পেসিফিক করে এখন বলতে পারব না।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বিধিটা এক্সজস্টিভ (পুঙ্খানুপুঙ্খ), ওটার বেসিসে একটা জায়গায় করলেই হবে। ওটা মডেল হিসেবে করা তখন ওইটার অনুকরণে আর সবকিছু..। জামানত বাড়বে। একেক স্থানীয় নির্বাচনে একেক হারে বাড়বে। কোথাও ৫ হাজার টাকা, কোথাও এক হাজার টাকা, কোথও ১০ হাজার টাকার কথা ভাবা হচ্ছে।
স্থানীয় নির্বাচন কখন হতে পারে জানতে চাইলে আখতার আহমেত বলেন, নির্বাচনের তারিখের ৪৫ দিন আগে তফসিল হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্ভর করে তো স্থানীয় সরকার বিভাগের উপরে। অক্টোবরের কথা যদি মন্ত্রী মহোদয় যদি বলেন তাহলে আমার তো আর বলার কিছু থাকে না। আমি কমিশনের পক্ষ থেকে বলতে পারি এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো চিঠি আসেনি।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর