ইরানে সর্বশেষ মার্কিন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে মার্কিন হামলার জবাবে তারা বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে আরও কঠোর ও ব্যাপক পাল্টা আঘাত হানা হবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, সংঘর্ষ এখনও চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ‘আগ্রাসন’ অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আইআরজিসি আরও নিশ্চিত করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক এবং কেশম দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় সিরিকের বেমানি এলাকায় একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে।
এদিকে ইরানের হামলার মধ্যে বাহরাইনে সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনগণকে ‘শান্ত থাকতে এবং নিকটতম নিরাপদ স্থানে চলে যেতে’ আহ্বান জানিয়েছে।
তেহরান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ ভাল জানিয়েছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বিবৃতি ছিল সাধারণ ধরনের। তবে আইআরজিসি এবং খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তর উভয়ই নিশ্চিত করেছে যে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। যদিও নির্দিষ্টভাবে শুধু বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটির কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘাঁটিটিতে কতটি ড্রোন হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে বা কোনও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়নি। তবে প্রকাশিত বিবৃতিগুলো ছিল বেশ কড়া ভাষার।
অন্যদিকে খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিজেদের হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে অজুহাত করে দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র যে হামলা চালিয়েছে, তার জবাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনী এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী যৌথভাবে শক্তিশালী হামলা চালিয়ে এই অঞ্চলের কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
অর্থাৎ এটি ইরানের ওই দুই সামরিক বাহিনীর যৌথ অভিযান ছিল। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে বুঝতে হবে যে তারা যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে আবারও আগ্রাসন চালায়, তাহলে এই অঞ্চলের বিভিন্ন নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আরও তীব্র ও ব্যাপক হামলা চালানো হবে।
এর অর্থ, ভবিষ্যতে আরও হামলার হুমকি দেয়া হয়েছে। আইআরজিসিও জানিয়েছে, ‘শত্রুর বিদ্বেষপূর্ণ পদক্ষেপের’ জবাবে বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর