• ঢাকা
  • ঢাকা, বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১৩ সেকেন্ড পূর্বে
রাশেদুল ইসলাম রাশেদ
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০ জুন, ২০২৬, ০৯:২৮ রাত

গাইবান্ধায় রেলের উচ্ছেদ অভিযান: ভাঙা হলো ছাপড়া, রইল বড় স্থাপনা

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

রেলের জমিতে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের নামে অভিযান চালিয়ে শতাধিক ছোট ছাপড়া স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও অক্ষত রয়ে গেছে রেললাইনের পাশের শত শত স্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের স্থাপনা রেখে শুধু ছোট ব্যবসায়ীদের দোকান উচ্ছেদ করে ‘লোক দেখানো’ অভিযান চালিয়েছে রেলওয়ে।

বুধবার (১০ জুন) গাইবান্ধা শহরে রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগের উদ্যোগে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রেলওয়ের বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুর হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়।

তবে অভিযানের পরও রেললাইনের দুই পাশের বিপৎসীমানার ভেতরে থাকা কয়েক শত স্থায়ী দোকান, মার্কেট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা বহাল তবিয়তে থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রেলবিধি অনুযায়ী রেললাইনের দুই পাশে ১৫ ফুটের মধ্যে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা ঝুঁকিপূর্ণ ও নিষিদ্ধ। কিন্তু গাইবান্ধা শহরের কাউয়া চত্বর থেকে ২ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ৫০০ অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এসব স্থাপনার অনেকগুলোই স্থায়ী ভবন ও মার্কেট।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৫ বছরে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নামসর্বস্ব ক্লাব, সংগঠন কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আড়ালে রেলের জায়গা দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে কাগজপত্র তৈরি করে বিপৎসীমানার মধ্যেই এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, প্রতিবছর এক-দুইবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও বড় স্থাপনাগুলোর দিকে হাত দেওয়া হয় না। বরং ছোট ছোট টিনশেড দোকান ভেঙে অভিযান শেষ করা হয়। কয়েকদিন পর আবার সেসব দোকান বসে যায়। ফলে উচ্ছেদ অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অভিযানের আগেই অনেক ব্যবসায়ীকে ঘর সরিয়ে নেওয়ার জন্য গোপনে সতর্ক করা হয়। ফলে প্রকৃত অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

অভিযান চলাকালে রেলওয়ের বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুর হোসেন, গাইবান্ধা রেলস্টেশন মাস্টার শ্রী সুমিত চন্দ্র, সার্ভেয়ার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও রেলওয়ে পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। রেলওয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেন।

তবে কেন বিপৎসীমানার মধ্যে থাকা স্থায়ী মার্কেট ও বড় স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়নি— এমন প্রশ্নের জবাবে গাইবান্ধা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার শ্রী সুমিত চন্দ্র বলেন, “যেসব স্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়নি, সেগুলোর জায়গা রেলওয়ের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া। সে কারণে সেগুলো উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি।”

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, রেলবিধি অনুযায়ী যেখানে বিপৎসীমানার মধ্যে স্থাপনা নির্মাণই ঝুঁকিপূর্ণ ও নিষিদ্ধ, সেখানে কীভাবে সেই জায়গা ইজারা দেওয়া হলো? আর যদি ইজারা দিয়েই থাকে, তাহলে জননিরাপত্তার স্বার্থে সেসব স্থাপনা বহাল রাখার যৌক্তিকতা কোথায়?

এদিকে রেললাইনের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো অপসারণ না হওয়ায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, প্রকৃত অবৈধ দখলদার ও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু ছোট ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করলে সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হবে না।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]