ভারত থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা 'পুশইন' ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাত জেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন সাধারণ জনগণ। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর মাধ্যমে পুশইন প্রচেষ্টা রুখতে গ্রামবাসী ও বিজিবির এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও কড়া নজরদারির কারণে ইতোমধ্যে দেশের অনেক এলাকায় অনুপ্রবেশ ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি দুর্গম ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলোতে শত শত স্থানীয় বাসিন্দাদের লাঠি ও টর্চলাইট হাতে রাত জেগে পাহারা দিতে দেখা যায়।
মৌলভীবাজার জেলার ৫২ বিজিবির আওতাধীন ১১৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় পুশইন ঠেকাতে বিজিবি ও স্থানীয় জনতার ব্যাপক তৎপরতায় সীমান্তে অনেকটা স্বস্তি বিরাজ করছে। সম্প্রতি সময়ে ভারতের বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে পুশইন করাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সকল সীমান্তে বিজিবির তৎপরতা, গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও চেকিং কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশের সকল সীমান্তের মতো মৌলভীবাজার জেলার ৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ১১৪ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি ও স্থানীয়দের শক্ত অবস্থানের কারণে বিভিন্ন পয়েন্টে বিএসএফের পুশইন প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন ঠেকাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির সঙ্গে স্থানীয়রাও রাত জেগে পাহারায় অংশ নিচ্ছেন। গত কয়েকদিন থেকে ৫২ বিজিবির আওতাধীন বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের বড়াইল সীমান্ত এলাকায় পুশইন ঠেকাতে স্থানীয় এলাকাবাসীদের নিয়ে রাতদিন পাহারা দিচ্ছেন বিজিবি। পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর নজরদারি জোরদার করায় এলাকায় স্বস্তি ফিরলেও সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ আতঙ্কে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, কয়েকদিন ধরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ লোকজনকে বড়াইল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করানোর অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ৫২ বিজিবির বড়াইল সীমান্ত এলাকায় বিজিবি গোয়েন্দা নজরদারিসহ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে এবং টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করে। অবৈধ পুশইন ঠেকাতে ও সীমান্ত সুরক্ষায় দেশের নিরাপত্তার জন্য স্বেচ্ছায় বিজিবিকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে স্থানীয়রা। দিনে ও রাতের বেলায় যাতে বিএসএফ পুশইন করতে না পারে সে লক্ষ্যে স্থানীয় জনতা, গ্রাম পুলিশ নিয়ে রাত জেগে পাহারা দিয়ে বিজিবিকে সহায়তা করছে।
স্থানীয়রা জানান, দেশের নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষায় তারা স্বেচ্ছায় বিজিবিকে সহযোগিতা করছেন। কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে তারা সতর্ক রয়েছেন। বড়লেখা উপজেলার সীমান্তবর্তী ৪ নং শাহবাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় বিএসএফের অবৈধ পুশইন ঠেকাতে মসজিদে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সচেতন করা হয়েছে।
এছাড়া গ্রাম পুলিশ, আনসার ও স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা নিয়ে রাতভর সীমান্ত এলাকায় পাহারায় অংশ নিচ্ছে। সীমান্তের সাধারণ জনগণ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পুশইন ঠেকাতে সবসময় সচেষ্ট আছে।
৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আতাউর রহমান সুজন বলেন, ৫২ বিজিবির ১১৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় পুশইন ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছি। এছাড়া দেশপ্রেমিক জনগণকে সাথে নিয়ে সীমান্ত সুরক্ষায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকাবাসী নজরদারি চালাচ্ছেন। বিজিবিকে স্থানীয় এলাকাবাসী যথেষ্ট সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর