প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আবাসন খাতে বিনিয়োগ করা অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দিয়েছে সরকার। তবে আগের মতো স্বল্প হারে ‘বিশেষ কর’ দিয়ে নয়, বরং নিয়মিত কর পরিশোধের মাধ্যমে এই সুবিধা নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপনকালে এ প্রস্তাব তুলে ধরেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সময় দলিলে প্রকৃত মূল্য গোপন করে কম মূল্য দেখিয়ে থাকলে তিনি আয়কর রিটার্নে সেই অপ্রদর্শিত অর্থ ঘোষণা করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য ও দলিলমূল্যের পার্থক্যের ওপর নির্ধারিত হারে কর দিতে হবে। ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য এই করহার ৩০ শতাংশ।
অন্যদিকে, সম্পত্তি বিক্রির সময় প্রকৃত বিক্রয়মূল্য গোপন করা হলে বিক্রেতাকে প্রকৃত মূল্য ও দলিলমূল্যের পার্থক্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূলধনী কর পরিশোধ করতে হবে।
তবে করদাতা স্বপ্রণোদিতভাবে ঘোষণা দেওয়ার আগেই যদি আয়কর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি শনাক্ত করে বা আইনগত ব্যবস্থা নেয়, তাহলে প্রদেয় করের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে।
উদাহরণ হিসেবে, কেউ যদি ২ কোটি টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনে দলিলে ৫০ লাখ টাকা মূল্য দেখান, তাহলে গোপন করা দেড় কোটি টাকার ওপর ৩০ শতাংশ হারে ৪৫ লাখ টাকা কর দিতে হবে। আর কর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি উদঘাটনের পর ঘোষণা দিলে অতিরিক্ত ৯ লাখ টাকা জরিমানাও গুনতে হবে।
একইভাবে বিক্রেতার ক্ষেত্রে গোপন করা দেড় কোটি টাকার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূলধনী কর দিতে হবে। পরে ধরা পড়লে অতিরিক্ত সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানাও দিতে হবে।
নতুন বিধানে বলা হয়েছে, নির্ধারিত নিয়মে অপ্রদর্শিত অর্থ ঘোষণা করে কর পরিশোধ করলে সেই অর্থের উৎস নিয়ে দেশের অন্য কোনো আইনে প্রশ্ন তোলা বা ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তবে কোনো ব্যক্তি যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন বা তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকে, তাহলে তিনি এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে অন্তর্বর্তী সরকার সেই সুবিধা বাতিল করে। এবার নতুন কাঠামোর মাধ্যমে নিয়মিত করহারে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ রাখা হলো।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর