টেকসই উন্নয়ন,কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নির্ভরযোগ্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য-উপাত্তের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন/২৬) বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর আওতাধীন ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিসংখ্যান কার্যালয় আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪-এর ন্যাশনাল রিপোর্ট’ বিষয়ক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) জন কেনেডি জাম্বিল, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. প্রদীপ কুমার সাহা, ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন তালুকদার, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক মো. ফিরোজ ইবনে ইউসুফ। সেমিনারে জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জনশুমারি, কৃষিশুমারি এবং অর্থনৈতিক শুমারি—এই তিন ধরনের শুমারি পরিচালনা করে থাকে। ১৯৮৩ সালে দেশে প্রথম অর্থনৈতিক শুমারি অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ চতুর্থ অর্থনৈতিক শুমারি ১৩ থেকে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত পরিচালিত হয়। অর্থনৈতিক শুমারির মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের কৃষি-বহির্ভূত অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন সম্পর্কিত পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা,আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ, জাতীয় শিল্পনীতি-২০২২ অনুসারে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৃহৎ, মাঝারি, ক্ষুদ্র, মাইক্রো ও কুটির শিল্পে শ্রেণিবিন্যাস করা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা।
বক্তারা জানান, ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক শুমারিতে ট্যাব ও জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করায় তথ্যগত ত্রুটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে বিভাগভিত্তিক অন্তর্বর্তীকালীন প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি ছিল বরিশাল বিভাগে ৭৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং সবচেয়ে কম ছিল ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতে সেবা খাতের অবদান ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “পরিসংখ্যানের তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমেই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের চিত্র ফুটে ওঠে। কিন্তু আমরা অনেক সময় প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে অনাগ্রহী থাকি। তথ্য সংগ্রহ একটি কঠিন কাজ। তাই এ ক্ষেত্রে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “পরিসংখ্যানের তথ্যভান্ডার যত সমৃদ্ধ হবে, গবেষণা তত উন্নত হবে। আর গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতেই বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর