ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের ঘটনায় ৯৫ শতাংশ দগ্ধ স্টক লট ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত মিজানুর রহমানের বাড়ি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার সিদ্দিক ভেন্ডার গ্রামে। তিনি আশুলিয়ার সোনিয়া মার্কেট এলাকায় স্টক লটের ব্যবসা করতেন এবং ঘটনাস্থলের কক্ষে একাই বসবাস করতেন। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন জানান, শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মিজানুর রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
স্থানীয় প্রতিবেশী রবিউল ইসলাম জানান, শনিবার রাত ১২টার দিকে মিজানুরের কক্ষে হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে ঘরের ভেতরে আগুন ধরে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান।
আরেক প্রতিবেশী সবুজ মিয়া বলেন, মিজানুর রহমান কক্ষে একাই থাকতেন। ঘটনার পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও চার্জার পোড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। আশুলিয়া থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “মিজানুর রহমান দুটি মোবাইল ফোন চার্জে দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ মোবাইল ফোন বিস্ফোরিত হলে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।”
এদিকে জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আহমেদুল কবির বলেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা বা ওভারহিটিংয়ের কারণে অনেক সময় মোবাইল ফোন কিংবা চার্জারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাত ১২টার দিকে আশুলিয়ার রশিদ মার্কেট এলাকার আলীমের ভাড়া বাড়িতে দুটি মোবাইল ফোন চার্জে দিয়ে ব্যবহার করছিলেন ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে মোবাইল ফোন দুটি বিস্ফোরিত হলে তিনি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর