গণস্বাস্থ্য হোমিওর অ্যাকাউন্টিং অফিসার হাসান মাহমুদ পলাশের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ ও চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ১৪ জুন ২০২৬, সকাল ১১টায় রাজধানীর ৫৬/১ বায়তুল ভিউ টাওয়ারের ১১ তলায় অবস্থিত গণস্বাস্থ্য হোমিও কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য হোমিওর চেয়ারম্যান ও ক্যান্সার গবেষক অধ্যক্ষ ডা. এস. এম. সরওয়ার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য হোমিওর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিঠুন চৌধুরী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং অডিট বিভাগের কর্মকর্তারা। গণস্বাস্থ্য হোমিও সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে ২০২৬ তারিখে আনুমানিক বিকেল ৩টার দিকে ৫ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে অফিস ত্যাগ করে ব্যাংকে টাকা জমা না দিয়ে চুরি করে পালিয়ে যান অ্যাকাউন্টিং অফিসার হাসান মাহমুদ পলাশ। এরপর থেকে পলাশ আর কর্মস্থলে ফিরে আসেননি।
প্রতিষ্ঠানের দাবি, পলাশ দুই মাসের হিসাবসংক্রান্ত কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয় যে, গত দুই মাসের হিসাব সম্পূর্ণভাবে যাচাই করা সম্ভব না হলেও সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকার অধিক হতে পারে। পলাশ দীর্ঘদিন ধরে অ্যাকাউন্টিং বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে থেকে ব্যাংক লেনদেন, ওষুধ কোম্পানির পাওনা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক বিষয়াদি পরিচালনা করতেন। গণস্বাস্থ্য হোমিওর অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেছেন এবং ওষুধ কোম্পানিগুলোর পাওনা পরিশোধ না করেই নিজে আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে গেছেন।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় এবং র্যাব-৩-এ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ডা. এস. এম. সরওয়ার বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে গণমাধ্যম ও জনসাধারণকে অবহিত করার লক্ষ্যে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করছি।” তিনি আরও ঘোষণা দেন যে, হাসান মাহমুদ পলাশের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে তাকে খুঁজে পেতে সহায়তা করতে পারলে ২০ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হবে। ০১৩৩৬-৩১২৮৪৮ নম্বরে যোগাযোগের করার জন্য অনুরোধ জানান। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. এস. এম সরওয়ার বলেন, “পলাশ প্রায় ৯ মাস ধরে গণস্বাস্থ্য হোমিওতে কর্মরত ছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক দায়িত্ব পালন করতেন।”
কোরবানির ঈদের আগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস এবং ওষুধ কোম্পানির বকেয়া পরিশোধের জন্য হিসাব প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হলে পলাশের অনিয়ম ধরা পড়ে যাবে বলে তিনি পালিয়ে যান। তিনি আরও বলেন, “হিসাবের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে পুরো আর্থিক হিসাব নিরূপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ব্যাংক হিসাবেও উল্লেখযোগ্য কোনো অর্থ পাওয়া যায়নি।” অভিযুক্ত হাসান মাহমুদ পলাশের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলায় বলে জানা গেছে। বর্তমান ঠিকানা: নারায়ণগঞ্জ জেলা, নারায়ণগঞ্জ সদর, বড় মসজিদের উত্তরে এখলাছ সাহেবের বাড়ি, আদমজীনগর-১৪৩০। এই ব্যাপারে পলাশের পক্ষে কোনো লোক খোঁজ করে পাওয়া যায়নি। পলাশের মোবাইল নম্বরটি বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর