শেরপুরে টাকা ও ২ ভরি সোনা লুট শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে 'শয়তানের নিঃশ্বাস' (স্কোপোলামিন) দিয়ে হিপনোটাইজ (সম্মোহন) করে এক গৃহবধূর কাছ থেকে নগদ ২২ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন এবং প্রায় ২ ভরি ওজনের সোনার গহনা লুটে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র।
লুটে নেওয়া গহনার মধ্যে রয়েছে একটি সোনার চেইন, এক জোড়া কানের দুল ও দুটি আংটি। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার শাহ-বন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়া গ্রামের হোসেন আলীর স্ত্রী তাপসি (২৫) স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই অভিনব প্রতারণার শিকার হন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৩ জনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। শেরপুর থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে ভুক্তভোগী তাপসি খাতুন ব্যক্তিগত প্রয়োজনে শেরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসেন। এ সময় এক অপরিচিত ব্যক্তি তার পথরোধ করে নিজের মায়ের গুরুতর অসুস্থতার কথা বলে কান্নাকাটি শুরু করে এবং সাহায্য চায়।
ঐ ব্যক্তি তাপসিকে জানায়, সে একটি বেকারিতে কাজ করত। কিন্তু মালিক কয়েক মাস বেতন না দিয়ে আজ তাকে চাকরি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে এবং বেতনের বদলে বেকারি পণ্য তৈরির কিছু মূল্যবান 'মেডিসিন' বা কেমিক্যাল দিয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি মায়ের চিকিৎসার জন্য জরুরি টাকার প্রয়োজন উল্লেখ করে সে ওই মেডিসিনগুলো বিক্রির জন্য তাপসির সহযোগিতা কামনা করে।
প্রতারক দাবি করে, দামি মেডিসিনগুলো একা বহন করতে সে ভয় পাচ্ছে, তাই বিক্রির সময় তাপসিকে সাথে থাকার অনুরোধ করে। তাপসি সরল বিশ্বাসে পাশের একটি বেকারির দোকান দেখিয়ে দিলে, মুহূর্তের মধ্যে সেখান থেকে আরও দুজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ক্রেতা সেজে এগিয়ে আসে। তারা অভিনয় করে বলে, এই মেডিসিনের অনেক দাম, আমরা এগুলো সব কিনে নেব। কথা বলার একপর্যায়ে চক্রের সদস্যরা তাপসির চোখে-মুখে 'শয়তানের নিঃশ্বাস' নামক চেতনানাশক পাউডার বা তরলের হাওয়া দেয়। সাথে সাথেই তাপসি নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং সম্মোহিত (হিপনোটাইজ) হয়ে পড়েন।
এরপর প্রতারকদের নির্দেশ মতো তিনি নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ব্যাগে থাকা নগদ ২২ হাজার টাকা এবং শরীর থেকে খুলে ১টি সোনার চেইন, ১ জোড়া কানের দুল ও ২টি আংটিসহ প্রায় ২ ভরি সোনার গহনা তাদের হাতে তুলে দেন। বিনিময়ে প্রতারকরা তাপসির হাতে একটি কাগজের পোটলা ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। ঘটনার কিছুক্ষণ পর সম্মোহনের ঘোর কেটে গেলে তাপসি স্বাভাবিক আচরণ ফিরে পান। নিজেকে একটি বেকারির ভেতর উদভ্রান্তের মতো ঘুরতে দেখে দোকানদাররা তাকে জিজ্ঞেস করেন। তখন তিনি পুরো বিষয়টি খুলে বলেন এবং বুঝতে পারেন যে তিনি এক ভয়ংকর প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে হাতের পোটলাটি খোলা হলে তার ভেতর থেকে গহনার বদলে কয়েকটি সাধারণ বিস্কুটের প্যাকেট পাওয়া যায়। ঘটনার পর পরই ভুক্তভোগী নারী শেরপুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জয়নুল আবেদিন বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে টাকা ও সোনা লুটের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি।
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ তদন্তের কাজ শুরু করেছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই এই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হব।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর