অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। তবে কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি টাইগারদের। আজ চট্টগ্রামে তিন ম্যাচের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ১০ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটে হারিয়েছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।
এর আগে ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজের স্মৃতিটা ভালো ছিল বাংলাদেশের জন্য। ২০২১ সালের সেই সিরিজে ঘরের মাঠে ৪-১ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজয়ের লজ্জা উপহার দিয়েছিল টাইগাররা। তবে এবার আর সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি হলো না, প্রথম ম্যাচ জিতে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল অজিরা।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রান তাড়ায় নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটাও অবশ্য খুব একটা মসৃণ ছিল না। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই উদ্বোধনী জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন শরিফুল ইসলাম। এই বাঁহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের স্লোয়ার ডেলিভারিতে রিভার্স স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড হন অজি ওপেনার জশ ইংলিস (৫)। চোট কাটিয়ে ফেরা অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক মিচেল মার্শকেও (১৩) বেশি দূর এগোতে দেননি মুস্তাফিজুর রহমান। মুস্তাফিজের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে শর্ট থার্ডম্যানে শরিফুলের হাতে সহজ ক্যাচ দেন তিনি।
৩৮ রানে ২ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন কুপার কনোলি ও টিম ডেভিড। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া কনোলিকে (৪৭) ফিরিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অভিষেকে নিজের প্রথম উইকেটের দেখা পান বাংলাদেশের পেস বোলিং অলরাউন্ডার আব্দুল গাফফার সাকলাইন। এরপর ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই টিম ডেভিডকে (২০) সাজঘরে ফেরান শেখ মেহেদী। জয় থেকে মাত্র ১৬ রান দূরে থাকতে নিখিল চৌধুরীকে (১৮) রিশাদ হোসেন এবং শেষ দিকে ম্যাট রেনশকে (১৮) আউট করে ম্যাচে কিছুটা রোমাঞ্চ ছড়ান সাকলাইন। তবে স্বল্প পুঁজির কারণে অজিদের জয় আটকানো সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের পক্ষে অভিষিক্ত সাকলাইন ২টি উইকেট নেন।
এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। স্পেন্সার জনসনের বলে টাইমিং মিস করে জেভিয়ার বার্টলেটের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম (১০)। এরপর ক্রিজে এসে আক্রমণাত্মক শুরু করা সাইফ হাসান ১৪ বলে ২০ রান করে ম্যাট রেনশের শিকার হন। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় ক্রিজে এসেই ছক্কা মেরে শুরু করলেও অ্যাডাম জাম্পার গুগলি বুঝতে না পেরে মাত্র ৮ রানে বোল্ড হয়ে যান।
তিন নম্বরে নামা সৌম্য সরকার ১৮ বলে ১৭ রান করে জাম্পার বলে ডিপ কাভারে নিখিল চৌধুরীর চমৎকার ক্যাচে পরিণত হন। এরপর পারভেজ হোসেন ইমন (১০), শামীম পাটোয়ারি (১) এবং আব্দুল গাফফার সাকলাইন (১০) দ্রুত ফিরে গেলে ৮৬ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ দিকে শেখ মেহেদীর লড়াকু ব্যাটে ভর করে কোনোরকম ১৩০ রান পার করে স্বাগতিকেরা। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে অ্যাডাম জাম্পা ও জোয়েল ডেভিস ৩টি করে এবং ম্যাট রেনশ ২টি উইকেট নেন।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর